অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর নিয়ে বিরাট ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার মুম্বইয়ে সাংবাদিক বৈঠকে বসেছিলেন তিনি। সেখানেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী শোনাল শাহর গলা। গত ১২ বছরে বিজেপি সরকারের সাফল্যও তুলে ধরেছেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে শাহ বলেন, বিজেপি সরকারের রাজনীতি পুরোটাই পারফরম্যান্স ভিত্তিক। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে চলেছে বিজেপি সরকার।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সাল থেকে দেশের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, অপারেশন সিঁদুরের মতো একের পর এক কর্মকাণ্ডে মোদি সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে, জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ভারত জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। একইভাবে দেশের অন্দরে নকশালদের খতম করেছে যেন অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা সুনিশ্চিত হয়। শাহ আরও বলেন, উত্তর-পূর্বে নাশকতা, ৩৭০ ধারার মতো বিষয়গুলিও দারুণভাবে সামাল দিয়েছে মোদি সরকার।
শাহের কথায়, বিজেপি সরকার ২০১৪ থেকে যে রাজনীতি করছে সেটা পারফরম্যান্স ভিত্তিক। অর্থাৎ নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করে এসেছে বিজেপি। সেই প্রতিশ্রুতির মধ্যেই অন্যতম অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে শাহ বলেন, “ইতিমধ্যেই কয়েকটা রাজ্যে আমরা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছি। ২০২৯ সালের মধ্যে দেশের ২১টি এনডিএ শাসিত রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হবে বলে আমি আত্মবিশ্বাসী। উল্লেখ্য, দিল্লি-সহ ১৫টি রাজ্যে বিজেপি একাই ক্ষমতায় রয়েছে। বাকি রাজ্যগুলিতে শরিকের সঙ্গে সরকার গড়েছে গেরুয়া শিবির।
২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচন। চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার হাতছানি নরেন্দ্র মোদির সামনে। নির্বাচনের আগে বাকি রয়েছে আড়াই বছরের কিছু বেশি সময়। তার মধ্যে দেশের ২১টি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করতে পারলে বিজেপির বিপুল ফায়দা হবে সেকথা বলাই বাহুল্য। ইতিমধ্যেই বাংলায় এই বিধি কার্যকরের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের ইস্তেহারেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সেই মতো ক্ষমতায় এসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, ‘‘আমরা এ রাজ্যে ইউসিসি বিল আনব। গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, অসমের পর। এতে সব সম্প্রদায়ের জন্য এক আইন লাগু হবে। “