• মোদি সাক্ষাতের পরই ‘বন্ধু’ রাহুলের সঙ্গে দেখা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর, ব্রিকস দেখল বিরোধী কূটনীতিও
    প্রতিদিন | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দু’দিন ধরে চলা ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে দিল্লিতে ভিড় জমেছে রাষ্ট্রনেতাদের। শনি ও রবিবার ভারত মণ্ডপমে ঠাসা কর্মসূচির মাঝে সময় বের করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনওয়ার ইব্রাহিম। রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে প্রাতরাশ করতে দেখা গেল তাঁকে। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেই ছবি। শুধু তাই নয়, প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকেও শ্রদ্ধা জানান মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান।

    রবিবার ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাতের সেই ছবি ও ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা। যেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রাতরাশের টেবিলে অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে খোশ মেজাজে গল্প করছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র মালয়েশিয়া আসিয়ান বেল্টের দেশ। গত শনিবার ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদির। সেই বৈঠকে বাণিজ্য, সেমিকন্ডাক্টর, পরিকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা ইস্যুতে সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন মোদি। সেই বৈঠক শেষেই রবিবার বিরোধী দলনেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইব্রাহিম। অবশ্য এহেন সাক্ষাৎ প্রথমবার নয়, ভারত সফরে এসে অতীতেও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেখা গিয়েছে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে।

    তবে শুধু কংগ্রেস নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ নয়, ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বন্ধু মনমোহন সিংকেও ভোলেননি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। এদিন সোশাল মিডিয়ায় মনমোহনের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানান তিনি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণের পর তাঁকে ‘প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন ইব্রাহিম। এবং ভারতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে মনমোহন সিংয়ের অবদানের প্রশংসা করেন। জানা যাচ্ছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের প্রতি ইব্রাহিমের দীর্ঘদিনের শ্রদ্ধার সূত্রেই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে এদিন সাক্ষাৎ করেন তিনি।

    সোশাল মিডিয়ায় ইব্রাহিম লেখেন, ৯০-এর দশকে তিনি যখন মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রী ছিলেন সেই সময় ভারতে মনমোহন সিংয়ের আর্থিক সংস্কারকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। মনমোহনের সঙ্গে অতীতের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি লেখেন, মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ইব্রাহিম যখন জেলবন্দি হন, তখন তাঁর সন্তানদের পড়াশোনার খরচ যোগানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন মনমোহন সিং। তাঁর দাবি, সেই সময় এই পদক্ষেপ মালয়েশিয়ার সরকারের কোপে পড়ার ঝুঁকি ছিল, তারপরও এই প্রস্তাব দেন তিনি। ইব্রাহিম বলেন, ‘নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই এমনটা করেছিলেন মনমোহন সিং।’
  • Link to this news (প্রতিদিন)