‘কিছু পায়নি, তাই খাবারে খুঁত ধরছে’, ব্রিকসে নিরামিষের নিন্দা করা রাহুলকে ‘নারাজ ফুফা’ তোপ বিজেপির
প্রতিদিন | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাঁকজমকপূর্ণ ব্রিকস সামিট শেষ। কিন্তু চিকেন তন্দুরির দেশ বলে গোটা বিশ্বে পরিচিত ভারতে এসে অতিথিরা পেয়েছেন নিরামিষ খাবার। এই বিষয়টি উল্লেখ করে সুর চড়িয়েছেন কংগ্রেসের একাধিক নেতা। পালটা বিজেপি তোপ দেগেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যবহৃত ‘নারাজ ফুফা’ শব্দবন্ধ নিয়ে। পদ্মশিবিরের কটাক্ষ, সুবুদ্ধিসম্পন্ন বিরোধী দলনেতা থাকলে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতেন। কিন্তু রাহুল গান্ধী নারাজ ফুফার মতো আচরণ করছেন।
বঙ্গ সফরে বাগেশ্বর বাবার আমিষ বিতর্কের মাঝেই দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন। সেখানে পুরোপুরি নিরামিষ মেনু ছিল। তারপরেই কটাক্ষ করে রবিবার সকালে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। লেখেন, ‘৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু, ঠিক আমার বোনের হাতে তৈরি ছোলে ভাটুরের মতো।’ সেই পোস্ট শেয়ার করে পবন খেরা লেখেন, ‘ভারতীয়দের খাদ্যাভাসে ছড়ি ঘোরাচ্ছে বিজেপি। এবার তো গোটা বিশ্বের অতিথিদের উপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিল।’ ভারতের বৈচিত্র নিয়ে সবসময়েই আলোচনা হয়, কিন্তু ব্রিকসের মেনু থেকে সেই বৈচিত্র উধাও হয়ে গিয়েছে বলেই মত।
কিন্তু বিজেপির দাবি, মেনু নিয়ে এত কথার আসলে কোনও অর্থ হয় না। গেরুয়া শিবিরের জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী, তুহিন সিনহাদের কথায়, ‘ব্রিকস সামিটে প্রস্তাবনায় ইতিহাস গড়েছে নয়াদিল্লি। বিশ্বের নানা ইস্যুতে একমত হয়েছে প্রত্যেক সদস্য দেশ। ইতিহাসে এমনটা আগে কখনও ঘটেনি। ভারতে যদি একজন সুযোগ্য বিরোধী দলনেতা থাকতেন তাহলে এই সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতেন। কিন্তু রাহুল গান্ধী অদ্ভুত সব মন্তব্য করছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নারাজ ফুফার মতো মানসিকতা দেখাচ্ছেন।’
বিজেপি নেতা অমিত মালব্যর কটাক্ষ, ব্রিকসের নিন্দা করার কোনও সুযোগ না পেয়ে নারাজ ফুফারা খাবার নিয়ে পড়েছে। সেকারণেই কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীরা না খেয়েই চলে গিয়েছেন, কারণ তাঁদের পছন্দের মেনু মেলেনি। কূটনৈতিক সাফল্য বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উন্নতির বিষয়গুলিতে নজরই দিচ্ছে না কংগ্রেস; তারা স্রেফ খুঁত ধরতে ব্যস্ত, এমনটাই মনে করছে বিজেপি।