• অধীরের ডাকে ছেড়েছিলেন চাকরি! সেই কাফির হাতেই মুর্শিদাবাদের দায়িত্ব কংগ্রেসের
    প্রতিদিন | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসে বড়সড় রদবদল। সংগঠনকে বুথস্তর পর্যন্ত শক্তিশালী করতে মুর্শিদাবাদ জেলাকে ভেঙে দুটি সাংগঠনিক জেলা করল প্রদেশ কংগ্রেস। মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা এবং জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা। শনিবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নতুন দুই সভাপতির নাম ঘোষণা করেন। মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে অধীর ঘনিষ্ঠ আব্দুলাহি কাফিকে এবং জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে আলফাজুদ্দিন বিশ্বাসকে। এই ঘোষণার ফলে বহরমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেওয়া হল। মনোজবাবু দীর্ঘদিন ধরে জেলা কংগ্রেসের দায়িত্বে ছিলেন এবং অধীর রঞ্জন চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তাঁকে সরিয়ে কাফিকে দায়িত্ব দেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    কিন্তু কে এই আব্দুলাহি কাফি? তিনি বর্তমানে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা। জানা গিয়েছে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি একটি বহুজাতিক সংস্থায় উচ্চপদে চাকরি করতেন। কিন্তু কংগ্রেসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং অধীর চৌধুরীর ডাকে সাড়া দিয়ে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে আসেন। বেলডাঙ্গা-১ নম্বর ব্লকের ভাবতা গ্রামে বুথ সভাপতি হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। তারপর জেলা পরিষদের সদস্য, পরে বিরোধী দলনেতা। এবার দল তাঁকে আরও বড় দায়িত্ব দিল। শুধু তাই নয়, এবারের রেজিনগর উপনির্বাচনে আব্দুলাহি কাফিকে কংগ্রেস প্রার্থীও করেছে দল। সোমবার তিনি মনোনয়ন জমা দেবেন। মনোনয়নের আগেই জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে তাঁর গুরুত্ব আরও বাড়ল। তাতে খুশি কাফি। 

    অন্যদিকে জঙ্গিপুরের দায়িত্ব পাওয়া আলফাজুদ্দিন বিশ্বাসও তৃণমূল স্তরের পরীক্ষিত নেতা। তিনি দীর্ঘদিন সুতি-২ ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। সুতি-২ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি এবং বর্তমানে জঙ্গিপুর মহকুমা কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সুতি কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন, যদিও পরাজিত হন। এই দুটি নিয়োগেই স্পষ্ট, মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের শেষ কথা এখনও অধীর রঞ্জন চৌধুরীই। তার দুই অনুগামীকে জেলার দায়িত্ব পাইয়ে দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, মুর্শিদাবাদে তার আধিপত্য এখনও বহাল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)