বাগেশ্বরের ছবি পোড়ানো কাণ্ডে ধুন্ধুমার ভবানীপুরে, থানার সামনে কংগ্রেস-বিজেপির হাতাহাতি
প্রতিদিন | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাগেশ্বর বাবার ‘পাখণ্ডী’ মন্তব্যের রেশ গড়াল বহুদূর! ভবানীপুর থানার সামনে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ল কংগ্রেস ও বিজেপি। রবিবার দিনভর তা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ভবানীপুরে। এদিন বাগেশ্বর কাণ্ডে কংগ্রেসের দুই নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় ও প্রদীপ প্রসাদকে থানায় তলব করা হয়েছিল। তাঁরা থানায় হাজিরা দিতেই বাইরে কংগ্রেস কর্মী, সমর্থকরা হইহট্টগোল শুরু করেন। পালটা বিজেপি সমর্থকরাও সেখানে হাজির হন। দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে জড়ায়। হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তোলে বিজেপি। পালটা কংগ্রেসের অভিযোগ, এসবই তাঁদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত।
দুর্গাপুজোয় বাঙালির আমিষ খাওয়া নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্য করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের তরুণ সন্ন্যাসী বাগেশ্বর বাবা ওরফে ধীরেন্দ্রনাথ শাস্ত্রী। তাঁর মন্তব্য অনুযায়ী, যাঁরা পুজোয় আমিষ খান, তাঁরা ‘পাখণ্ডী’ বা ভণ্ড, অধার্মিক। এর বিরোধিতায় তীব্র প্রতিবাদ হয় নানা মহলে। প্রতিবাদে নেমে কলকাতায় কংগ্রেস কর্মী, সমর্থকরা বাগেশ্বর বাবার ছবি পুড়িয়ে দেন। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যাঁরা সন্ন্যাসীর ছবি পুড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই অতনু দাস নামে এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পাশাপাশি রবিবার কংগ্রেসের দুই জনপ্রিয় নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় ও প্রদীপ প্রসাদকে তলব করা হয়। তার আগে শনিবার রাতেই প্রদেশ কংগ্রেসের সংগঠনে রদবদলের জেরে প্রদীপ প্রসাদকে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের পদ থেকে সরানো হয়। এনিয়ে কংগ্রেসের একাংশে ক্ষোভ ছিলই। আজ ভবানীপুর থানায় তাঁরা হাজিরা দিতেই বাইরে অনুগামীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিজেপিও পালটা সেখানে গিয়ে বাগেশ্বর বাবার অপমানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। এক নেতার কথায়, ‘‘ওরা আগে বাঙালিকে অপমান করেছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী তো মাছ দিয়ে ভোগ খেয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, পুজোর সঙ্গে আমিষ খাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। তবুও ওরা সন্ন্যাসীর অপমান করেছে।” এর পালটায় আশুতোষের বক্তব্য, ‘‘এটা সম্পূর্ণ চক্রান্ত করা হয়েছে। মনে রাখবেন, উনি বাংলায় এসে বাঙালিকে অপমান করেছে। কীভাবে এর প্রতিবাদ করতে হয়, আমরা পথে নেমে দেখিয়ে দেব।”