বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানো নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মামলায় নয়া মোড়! পুলিশের তলবে থানায় হাজির হয়ে নতুন কাহিনি শোনালেন দুই কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় ও প্রদীপ প্রসাদ। তাঁদের দাবি, বাগেশ্বর বাবার ছবি তাঁরা নন, অতিরিক্ত উত্তেজনার মাঝে তাতে আগুন জ্বালিয়েছেন জনা কয়েক কংগ্রেস কর্মী। নেতারা স্রেফ থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। রবিবার ভবানীপুর থানায় এমনই বয়ান দিয়েছেন দু’জন। এদিন ঘণ্টা দেড়েক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার দু’জনকে আদালত থেকে জামিন নিতে হবে।
দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া বিতর্কে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভের নামে ছবি মধ্যপ্রদেশের তরুণ সন্ন্যাসীর ছবি পোড়ানো নিয়ে অশান্তির জের গড়িয়েছে বহু দূর। ভবানীপুর থানার সামনে বিক্ষোভে ছবি পোড়ানোর অভিযোগে অতনু দাস নামে এক কংগ্রেস কর্মী গ্রেপ্তার হন। এই মামলায় দলের দুই নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় ও প্রদীপ প্রসাদকে থানায় তলব করা হয়েছিল রবিবার। সেখানে হাজিরা দিয়ে ঠিক কী বয়ান দিলেন দু’জন? তাতেই টুইস্ট। আশুতোষ ও প্রদীপের দাবি, ‘‘আমরা শুধু থানার সামনে বিক্ষোভ করছিলাম। কারও ছবি পোড়ানো হয়নি। বিক্ষোভ যখন প্রায় শেষের মুখে, তখন একটি মিডিয়া চ্যানেলের প্রতিনিধিরা এসে জানান, তাঁদের বিক্ষোভের কিছু ফুটেজ চাই। সেকথা শুনে আমাদের কয়েকজন কর্মী অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে অন্যদিকে গিয়ে ফের বিক্ষোভ দেখান। সেখানেই পোড়ানো হয় বাগেশ্বরের ছবি। মাঝে আমরাও জড়িয়ে যাই। আর পুলিশ আমাদের তলব করে। কিন্তু কোনও ছবি পোড়ানোয় আমরা ছিলাম না।”
আশুতোষদের এই বয়ানকে অবশ্য কটাক্ষ করেছেন কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ওঁদের এই বয়ানেই বোঝা যায় যে টিভি চ্যানেলে মুখ দেখানোর জন্য কংগ্রেস যা খুশি করতে পারে। একজন সনাতন সাধুর ছবি পোড়াতেও ওরা পিছপা হয় না। এটাই রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস। ক্ষমতা থাকলে ওরা একজন পীর বা মৌলানার থবি পুড়িয়ে দেখাক।” এই মামলায় সোমবার ধৃত কংগ্রেস নেতা অতনু দাসকে ফের আদালতে তোলা হবে। জামিনের আবেদন জানানো হবে। একইসঙ্গে আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় ও প্রদীপ প্রসাদকেও জামিন নিতে হবে।