এই সময়, শিলিগুড়ি: একশোর বেশি বুনো হাতি নিয়ে নাজেহাল কার্শিয়াং বন দপ্তর। সপ্তাহ খানেক হলো হাতির পাল ডুয়ার্স থেকে তিস্তা নদী পেরিয়ে ঢুকেছে বাগডোগরা, বেঙডুবি, কলাবাড়ি এবং নকশালবাড়ির টুকুরিয়ার জঙ্গলে। ছোট বাচ্চা যেমন রয়েছে দলে, তেমনই রয়েছে দাঁতাল।
সন্ধ্যা নামলেই ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তারা জঙ্গল থেকে লাগোয়া গ্রামে গিয়ে আধপাকা ধান খাচ্ছে। যত না খাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি নষ্ট করছে। ভোর হলেই ফের জঙ্গলের পথে ফেরা। সকালে প্রাতঃভ্রমণ বন্ধ হতে বসেছে স্থানীয়দের। বেশি রাতে ঘরে ফেরা লোকেদের সাবধানে রাস্তা পার করিয়ে দিচ্ছেন বনকর্মীরা। বাগডোগরার রেঞ্জ অফিসার সোনম ভুটিয়া বলেন, 'আপাতত স্থানীয়দের প্রাতভ্রমণে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে মাইকে প্রচার করা হচ্ছে।'
বছরের এই সময়ে ধান ও ভুট্টা পাকে। সেই ফসলের লোভে হাতির পাল জঙ্গল থেকে বার হয়ে আসে। বছরের পর বছর ধরে প্রাকৃতিক এই নিয়ম বুনো হাতির পালের মগজে ঢুকে গিয়েছে। ফলে সেপ্টেম্বরেই এ বার তরাইয়ের প্রতিটি জঙ্গলে হাজির হাতির পাল। আগে বন দপ্তরের পাহারায় নানা ঢিলেমি ছিল। ফলে বুনো হাতির হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ছিল অহরহ।
বছর দু'য়েক হলো বন দপ্তর থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাতভর হাতির পালের গতিবিধির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। ভোরে হাতির পাল জঙ্গলে ফেরার পরে স্বস্তি। লোকালয়ের ধারেকাছে হাতির পাল গেলেই স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। সকাল, বিকেল হাতির পাল জাতীয় সড়ক পার হওয়ার সময়ে দু'দিকে যান আটকে রেখে হাতির পালকে নিরাপদে যেতে দেওয়া হচ্ছে। নকশালবাড়ির আশাপুর চা বাগানের বাসিন্দা সুরেন কুজুর বলেন, 'রোজ রাতে হাতি ঢুকছে বস্তিতে। খুবই আতঙ্কে রয়েছি।'