এই সময়, নয়াদিল্লি: রইল বাকি ৪৮ ঘণ্টা। কিন্তু আগামী বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গের দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কি আদৌ তৃণমূল কংগ্রেসের ‘প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব’ নিয়ে বিবাদের নিষ্পত্তি হবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট–তৃণমূল, নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের বিদ্রোহী তৃণমূল— কারা ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ (এআইটিসি) নাম ও ঘাসের উপরে জোড়াফুল প্রতীকে লড়বে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে, তা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেবে দেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি)? এই প্রশ্নে স্নায়ুযুদ্ধ আরও বাড়ল রবিবার দু’পক্ষকে কমিশনের পাঠানো চিঠিতে।
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টের মধ্যে কালীঘাট শিবির ও বিদ্রোহী শিবির— দু’পক্ষকে নিজেদের দাবির সমর্থনে আরও কোনও নথি থাকলে তা জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছে কমিশন। তারপরে যদি কমিশন মনে করে, তা হলে পরের দিন অর্থাৎ, ১৭ সেপ্টেম্বর দু’পক্ষকে ফের ডাকতে পারে শুনানির জন্য। রবিবার পর্যন্ত কমিশন কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না–দেওয়ায় এখনও এআইটিসি নাম ও জোড়াফুল প্রতীক মমতাপন্থীদের হাতেই থাকার কথা বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের। কিন্তু শেষমেশ তাঁদের প্রার্থীই এই প্রতীকে লড়বেন, নাকি অন্য পক্ষ, অথবা ওই প্রতীক সাময়িক ভাবে ফ্রিজ় করে দেওয়া হবে— এ দিনের চিঠির প্রেক্ষিতে সেই জল্পনা আরও বাড়ল।
এই টানাপড়েনের মধ্যেই এ দিন সন্ধেয় কালীঘাট শিবির দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে দেয়। মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে তাদের প্রার্থী হচ্ছেন রবিউল আলম চৌধুরী এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান (দে)। তবে তাঁরা শেষমেশ জোড়াফুল প্রতীকে লড়তে পারবেন কি না, তা এখনও ঝুলে থাকছে কমিশনের সিদ্ধান্তের উপরে। এর আগে বাম ও কংগ্রেস এই দুই কেন্দ্রে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ, ফল ঘোষণা হওয়ার কথা ৯ অক্টোবর।
এ দিন সকালে কালীঘাট–তৃণমূলের আইনজীবী–সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে লেখেন, ‘নির্বাচন কমিশন কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি। আগামী ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর আমাদের ফের বৈঠকে ডেকেছে। উপনির্বাচনে আমাদের প্রার্থীই দলীয় প্রতীকে (জোড়াফুল) লড়াই করবেন।’ যদিও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ডঃ ব্যানার্জিকে (মমতা) কমিশন যে চিঠি দিয়েছে, সেটাই আমাদের দিয়েছে। সেখানে লেখা আছে, ইফ রিকোয়্যার্ড অর্থাৎ, যদি প্রয়োজন হয়, তা হলে ১৭ তারিখ ডাকবে। তার আগে ১৬ তারিখের মধ্যে সব নথি পাঠিয়ে দেবো।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমি শুনছি কেউ কেউ নাকি বলছেন ১৭ তারিখ আবার বৈঠক হবে। কিন্তু কমিশন বলেছে ইফ রিকোয়্যার্ড, অর্থাৎ প্রয়োজন হলে তারা আবার ডাকবে। ডাকলে যাব। তার আগে কেউ নিজেদের মতো ইন্টারপ্রেট করছেন। তাঁদের জন্য শুভেচ্ছা রইল, আগাম লাল গোলাপ রইল।’ কল্যাণকে আলাদা করে বিঁধে তাঁর কটাক্ষ, ‘এটা কল্যাণ ব্যানার্জির ইন্টারপ্রিটেশন। উনি তো বড় আইনজীবী! প্রতীক কে পাবে, ফর্ম–এ, ফর্ম–বি কে পাবে, সেটা কমিশন ঠিক করবে।’
এ দিন বিকেল ৫টা নাগাদ দিল্লিতে কমিশনের সদর দপ্তরে আরও বেশ কিছু নথি জমা দিয়েছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের তরফে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। নথির হার্ড কপি কমিশনের সদর দপ্তরে যেমন জমা দেওয়া হয়েছে, তেমনই সব নথির প্রতিলিপি কমিশনকে ই–মেলও করা হয়েছে৷ দলীয় সূত্রের দাবি, এই সব নথির মধ্যে আছে— ২০১৫, ২০১৭ এবং ২০২২–এ হওয়া দলের সাংগঠনিক নির্বাচনের যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ৷ ডেরেককে খোঁচা দিয়ে অবশ্য ঋতব্রতর মন্তব্য, ‘ওই ক্যুইজ় মাস্টার কি চিফ ইলেকশন কমিশনার হয়েছেন? ২০২৯–এর পরে তো ওঁর এমপি পদটাই থাকবে না। ওঁর কথাকে গুরুত্ব দিতে হবে, এমন খারাপ সময় আসেনি। আমরা যা বলার জ্ঞানেশ কুমারকে বলেছি।’
ইতিমধ্যে নিজের ছেড়ে দেওয়া নন্দীগ্রাম সিটের উপনির্বাচনে রেকর্ড মার্জিনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগরেও জয়ই তাঁদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন। তবে রবিবার সন্ধে পর্যন্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি পদ্ম শিবির। বরং তৃণমূলের প্রতীক–যুদ্ধ নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের শ্লেষাত্মক মন্তব্য, ‘মৃত বা ঋত কোনও তৃণমূলকে নিয়ে আমাদের কোনও আগ্রহ নেই। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যে মানুষের রায়ে পরীক্ষিত এবং পরিত্যক্ত। মানুষেরও তাদের নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই, বিজেপিরও এ নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই।’