• গোবিন্দভোগেও ভেজাল! প্রশ্নে 'সনম'
    এই সময় | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • রূপক মজুমদার, বর্ধমান

    রাজ্যের শস্যগোলা বলা হয় পূর্ব বর্ধমানকে। জেলার দক্ষিণ দামোদর এলাকার কয়েকটি ব্লকে তৈরি হয় গোবিন্দভোগ চাল। স্বাদ ও বিশেষত সুগন্ধের জন্য রাজ্যের বাইরে, এমনকী বিদেশেও রপ্তানি হয় এই চাল। এ বার সেই চালেও ভেজাল! গোবিন্দভোগ চালের যে ধান, তার চাষে যুক্ত কৃষকরাই এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগের আঙুল রাইস মিলের মালিকদের একাংশের দিকে।

    বিহার আর উত্তরবঙ্গ থেকে সনম নামে একটা ধান আসছে, যা ৯০ শতাংশ দেখতে গোবিন্দভোগ ধানের মতো। রাইস মিলের মালিকদের একাংশ তা থেকে চাল বার করে তাতে সেন্ট ঢেলে আসল গোবিন্দভোগ চালের সঙ্গে মিশিয়ে বাজারে পাঠাচ্ছেন। আবার কখনও ওই নকল গোবিন্দভোগ চালকেই আসল বলে বাজারে চালানো হচ্ছে। কৃষকদের আশঙ্কা, এর জেরে দেশে–বিদেশে গোবিন্দভোগ চালের কদর কমে যাবে অচিরেই। এই ভেজাল রুখতে এখনই রাইস মিলগুলিতে অভিযান চালাক প্রশাসন, চাইছেন তাঁরা।

    পূর্ব বর্ধমানে গোবিন্দভোগ ধানের চাষ হয় প্রধানত রায়না, খণ্ডঘোষ ও মাধবডিহিতে। আর হয় বাঁকুড়ার ইন্দাসের একটি অংশে। এই চাষে যুক্ত কৃষকদের অভিযোগ, নকল গোবিন্দভোগ চালের জন্য আসল গোবিন্দভোগ চালের ধান ফলিয়ে লাভজনক দাম পাচ্ছেন না তাঁরা। মাধবডিহির এক কৃষক সুমন সাহা এ দিন বললেন, 'সনম বলে ধানটা থেকে চাল বার করে পালিশ করছেন রাইস মিলাররা। তাতে সেন্ট মেরে গোবিন্দভোগের সঙ্গে পাইল করে দিচ্ছেন।' তাঁরও অভিযোগ, 'এত খরচ করে বিঘে প্রতি ৭-৮ বস্তা ধান ফলাচ্ছি, কিন্তু আর দাম পাচ্ছি না।'

    দাম না–পাওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করতেই রায়না–১ ব্লকের বজরুক দিঘি এলাকার এক কৃষক শেখ আনসার আলি এ দিন বললেন, 'বিঘে প্রতি ৯-১০ বস্তা গোবিন্দভোগ ধান পাই। এক বস্তা মানে ৬০ কেজি। ১১০-১৩০ টাকা কেজি দরে তা বিক্রি করতাম রাইস মিলে। এখন তার সঙ্গে সনম চাল মেশানো হচ্ছে বলে আমাদের আসল গোবিন্দভোগ ধানের জন্য কেজিতে ৮০–৯০ টাকার বেশি দাম দিতে চাইছেন না রাইস মিলের মালিকরা। অসাধু উপায়ে রোজগার করে নিচ্ছেন ওঁরা।' খণ্ডঘোষের কৃষক শেখ বদলে আলমের কথায়, 'গোবিন্দভোগ চাষে এত টাকা খরচ করে আমরা দাম পাচ্ছি না। আমাদের মধ্যে হতাশা জন্মাচ্ছে। অবিলম্বে নকল বা ভেজাল বন্ধ করতে প্রশাসন ব্যবস্থা নিক।'

    জানা গিয়েছে, এই এলাকার গোবিন্দভোগ চাল কেরালায় বেশি যায়। সেখান থেকে সৌদি আরব–সহ অন্য দেশে রপ্তানি হয়। এই গোবিন্দভোগ চালের জন্যই আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ পরিচিত পূর্ব বর্ধমানের দক্ষিণ দামোদর এলাকা। সুগন্ধ, গুণমান এবং স্বাদের জন্য এই চাল বহু দিন ধরেই দেশ-বিদেশে সমাদৃত। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় কয়েক বছর ধরে এই ধানের চাষ করে লাভের মুখও দেখছিলেন এলাকার কৃষকরা। কিন্তু বর্তমানে সেই সুনাম ও বাজার হারিয়ে যেতে বসেছে একাংশের অসাধু রাইস মিল মালিকের জন্য।

  • Link to this news (এই সময়)