• সরকারি খাতায় নাম রয়েছে, অথচ বাস্তবে হুগলির সেই মাদ্রাসার কোনও অস্তিত্বই নেই...
    এই সময় | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সরকারি খাতায় নাম আছে, অথচ বাস্তবে অস্তিত্বই নেই বৈঁচি বিলসরার মাদ্রাসার। বিজেপি সরকার অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। সেই তালিকায় থাকা ২৫২টি মাদ্রাসার মধ্যে নাম রয়েছে হুগলির বৈঁচির ওই মাদ্রাসারও। হুগলির পাণ্ডুয়া ব্লকের বৈঁচির তারাজোল গ্রামে কাজী নজরুল ইসলাম মেমোরিয়াল জুনিয়র হাই মাদ্রাসা। অথচ গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, নামে মাদ্রাসা থাকলেও বাস্তবে তার কোনও পরিকাঠামোই গড়ে ওঠেনি।

    জানা গিয়েছে, বৈঁচি-বিলসরা রোডের পাশে মাদ্রাসা তৈরির জন্য এক সময়ে জায়গা নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই জায়গা বিক্রি হয়ে গিয়েছে। যেখানে মাদ্রাসা হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন বড় বড় গাছ লাগিয়ে ঘেরা হয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল রহমানের কথায়, ‘আমার ভাই রাকিবুল রহমান ও কয়েকজন শিক্ষক মিলে মাদ্রাসা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে বৈঁচি-বিলসরা রোডের পাশে আব্দুল কাসেদের স্ত্রীর কাছ থেকে প্রায় এক বিঘা জমি লিজ়ে নেওয়া হয়েছিল।

    ওই জমিতে একটি অস্থায়ী টিনের ছাউনি দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। দু’বছর চেষ্টা করেও সরকারি অনুমোদন মেলেনি, কোনও আর্থিক সহযোগিতাও পাওয়া যায়নি। তাই মাদ্রাসা আর চালু করা সম্ভব হয়নি। পরে মালিককে জমি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি খাতায় কাজী নজরুল ইসলাম মেমোরিয়াল জুনিয়র হাই মাদ্রাসার নাম রয়ে গিয়েছে।’

    রাজ্য সরকার যে ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে, সেই তালিকায় এই না হওয়া মাদ্রাসার নামও রয়েছে। বর্তমানে ওই জমি কিনেছেন শেখ মীরসাদ। তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা তৈরির জন্য একটা চালা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু একটা ঝড়ে সেটা ভেঙে যায়। তার পরে আর তৈরি হয়নি। শুনেছিলাম কয়েকজন বাচ্চাও এসেছিল। পরে জমির মালিক জমি বিক্রি করে দেন, আমি কিনে নিয়েছি। হতে পারে কেউ চাকরি পাওয়ার আশায় বা সরকারি অনুদান নেওয়ার জন্য এই নামটা তুলেছিল।’

    গ্রামের আর এক বাসিন্দা মহম্মদ মফিজউদ্দিন বলেন, ‘বেশ কয়েকটা ঘর ছিল, তার সঙ্গে বাথরুমও ছিল। আমরা দেখেছি। মাদ্রাসা হবে শুনেছিলাম, কিন্তু তার পরে আর হয়নি। একবার মাদ্রাসার জন্য সরকারি আধিকারিকরা পরিদর্শন করতেও এসেছিলেন। মাদ্রাসা হলে ভালোই হতো।’

  • Link to this news (এই সময়)