• বেড়াতে যাচ্ছেন? AI-র দ্বারস্থ হতে বলছে পুলিশ
    এই সময় | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • অর্পিতা হাজরা

    প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে 'এআই' বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স–কে ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছে খোদ পুলিশই!

    একদিকে সাইবার প্রতারণায় জেরবার প্রশাসন সাধারণ ভাবে 'এআই' ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে বলছে। চ্যাটজিপিটি–র মতো এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ৮০–র লুক দিতে গিয়ে সমূহ বিপদের কথা বলছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।

    সেই আবহে পুলিশ বলছে 'এআই' ব্যবহার করুন! তবে, সবাইকে নয়। সেটা বলা হচ্ছে, সেই সব মানুষকে যাঁরা পুজোর সময়ে বেড়াতে যাচ্ছেন। সপরিবার, সবান্ধব যাঁরা বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান করেছেন, তাঁদের অনেকেই ট্র্যাভেল এজেন্টদের আকাশছোঁয়া 'প্যাকেজ'–এর কারণে নিজেরাই নেটে হোটেল–রিসর্ট বুক করেন। আর তা করতে গিয়ে পেমেন্টের সময়ে বিপদে পড়ে যাচ্ছেন। কারণ, নেট দুনিয়ায় এমন অনেক হোটেলের লিঙ্ক ভেসে বেড়াচ্ছে যা আদতে ভুয়ো। নেটে সার্চ করলে তারাও এসে ভিড় করছে। হোটেল–রিসর্টের যে সব ছবি আপলোড করছে, তা দেখে প্রলোভন হতেই পারে। আর তাতে পা দিলেই সর্বনাশ। কারণ, বুকিংয়ের সময়ে অ্যাডভান্স বা অগ্রিম টাকা পেমেন্ট করতে হয়। বাকি পেমেন্ট হোটেলে পৌঁছে দিলেও চলে।

    পুলিশের দাবি, এমন অনেক ঘটনার কথা অতীতেও সামনে এসেছে, যেখানে বেড়াতে যাওয়ার আগে হোটেলকে অগ্রিম দেওয়ার পরে সেই শহরে গিয়ে দেখা গিয়েছে, হোটেলটির কোনও অস্তিত্বই নেই। তখন মাথায় হাত পড়েছে পর্যটকদের। বাধ্য হয়ে শেষ মুহূর্তে অনেক বেশি টাকা খরচ করে অন্য হোটেল বুক করতে হয়েছে। বিদেশে এই ধরনের বিপদ তুলনায় েবশি।

    তাই, পুলিশ অফিসারদের পরামর্শ, নেটে ছবি দেখার পরে সেখানে থাকা ফোন নম্বরে একবার মাত্র যোগাযোগ করেই টাকা পেমেন্ট করা উচিত নয়। বরং ওই নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট লিঙ্ক নিয়ে 'এআই'–কে জিজ্ঞাসা করে, হোটেল ও তার ছবি পাঠিয়ে জানা যেতে পারে সেটি ভুয়ো নাকি আসল? পুলিশের কথায়, 'এআই' তা অনেক সহজেই নির্ধারিত করে দেবে সেটি ভুয়ো কিনা। এ ছাড়াও ওই শহরের আশপাশের হোটেলগুলিতেও ফোন করে যাচাই করা যেতে পারে ওই নামে আদৌ কোনও হোটেল বা রির্সট আছে কিনা। পুলিশের পরামর্শ, প্রাথমিক ভাবে ওই হোটেলের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত হওয়ার পরে চেষ্টা করুন স্পটে গিয়ে বুক করতে। সদলবলে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন সল্টলেকের সুতপা মৌলিক। তাঁর কথায়, 'সরাসরি হোটেল বুক করব নাকি এজেন্টের মাধ্যমে যাব, তা নিয়ে আমাদের বিস্তর আলোচনা হয়েছে। শেষে কলকাতার এক এজেন্ট মারফতই হোটেল ও সেখানে ঘোরার জন্য গাড়ি বুক করা হয়েছে। কোনও সমস্যা হলে সেই এজেন্টই দায়ী থাকবেন।'

    পুলিশের কথায়, হোটেল বুক করে গিয়ে ছোটখাটো প্রতারণার ঘটনায় অভিযোগ জমা পড়ে না। ফলে রাজ্য জুড়ে এমন ঘটনা প্রায়শই ঘটলেও তার সঠিক হিসেব পাওয়া মুশকিল। কলকাতা পুলিশেরই প্রাক্তন এক কর্তার অভিজ্ঞতা, কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় খাদির একটি ফুলহাতা জামা দেখে পছন্দ হয় তাঁর। দাম মাত্র ২৯০ টাকা। পুজোর আগে ছাড় দেখে তিনি অর্ডার করতে যান। হঠাৎ–ই মনে হয়, একবার যাচাই করা দরকার। তিনি 'এআই'–তে ওই সাইটের লিঙ্ক–সহ ছবি দিতে স্পষ্ট হয়ে যায় লিঙ্কটি ভুয়ো। ওই ফোন নম্বরের কোনও অস্তিত্বই নেই।

    ভ্রমণ পিপাসুরা পুজোর ঘোরাঘুরির প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন। কিছু ক্ষেত্রে প্রতারণার অভিযোগও ওঠে। যদিও পুলিশের তরফে বারবার সর্তক করা হয়েছে। তারপরেও টনক নড়েনি। পুলিশ জানাচ্ছে, উৎসবের আগে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সতর্কতার বার্তা প্রচার করা হলেও বছরের অন্য সময়ে প্রচার চলে না। ফলে মানুষ সব ভুলে অসতর্ক হয়ে বারবার প্রতারকদের ফাঁদে পা দেন। তাই সারা বছরই প্রচার চালানো প্রয়োজন বলে মনে করছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)