• গোবর থেকে জ্বালানি তৈরি এবার বঙ্গেও, গোবর্ধন প্রকল্পে ২১ জেলায় বায়োগ্যাস ইউনিট
    প্রতিদিন | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • একযোগে জ্বালানি সমস্যার মোকাবিলা, আর পরিবেশ রক্ষার মতো দুটি বিষয়ের সহজ দাওয়াই খুঁজতে গোবরে নির্ভরতা বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাই, পঞ্চায়েত দপ্তরের সঙ্গে সিএমইআরআই -এর নতুন করে গাঁটছড়া বেঁধেছে। পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং গ্রামগুলিকে ‘জিরো ওয়েস্ট’ হিসেবে গড়ে তুলতেই এই নতুন উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তর। এই লক্ষ্যে দুর্গাপুরের সিএমইআরআই- এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত এক কর্মশালায় পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের ১৪টি জেলা পরিষদের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা অংশ নেন। কর্মশালায় নেতৃত্ব দেন সিএমইআরআই-এর অধিকর্তা নরেশচন্দ্র মুর্মু এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি আবিদা সুলতানা। কেন্দ্রের ‘গোবর্ধন’ প্রকল্পকে গ্রামাঞ্চলে আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    নরেশচন্দ্র মুর্মু জানান, “এলপিজির ক্রমবর্ধমান দামের মোকাবিলা এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়াতে প্রতিটি জেলা পরিষদকে ঘরোয়া বায়োগ্যাস ব্যবহারে আরও জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু প্রযুক্তি হস্তান্তর নয়, এই প্রযুক্তি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।” গবাদি পশুর গোবরকে প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে বায়োগ্যাস তৈরি করে সিএমআরআই -এর প্রযুক্তি। ইতিমধ্যেই সিএমআরআইতে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক পৌরসভার কঠিন বর্জ্য অপসারণের সমন্বিত ব্যবস্থা। সিএমআরআই – এর নিজস্ব কর্মী আবাসনের ২৫০ ঘরে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষমতা সম্পন্ন এই ত্রিমুখী ব্যবস্থাটিই রাজ্যের প্রথম ‘জিরো ওয়েস্ট’ কলোনি তৈরির নজির গড়েছে। এই ব্যবস্থায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কেজি বর্জ্য যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পৃথক করা যায়। সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘনমিটার বায়োগ্যাস উৎপন্ন হয়, যা রান্না ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা সম্ভব। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবহার করে ব্রিকেটও তৈরি করা হচ্ছে। সিএমআরআই – এর আধিকারিকদের দাবি, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ২১টি জেলায় বায়োগ্যাস ইউনিট বসানো হয়েছে। হোটেল, বাজার, আবাসন এবং হাউসিং সোসাইটির মতো জায়গাতেও এই প্রযুক্তি কার্যকর ভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

    জেলা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি আবিদা সুলতানা বলেন, ‘‘স্বচ্ছ ভারত-এর গোবর্ধন প্রকল্পের মাধ্যমে গোবর ও রান্নাঘরের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস এবং জৈব সার তৈরি হচ্ছে। এর ফলে শক্তি উৎপাদনের পাশাপাশি গ্রাম আরও পরিচ্ছন্ন হবে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।’’ জানা গিয়েছে, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগের জন্য স্বল্প খরচে এই প্রযুক্তি সরবরাহ করে থাকে সিএমইআরআই। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের অর্থানুকূল্যে আরও একটি প্রকল্পের কাজ চলছে, যার লক্ষ্য বায়োগ্যাসে মিথেনের উৎপাদন বাড়ানো। ইতিমধ্যেই বায়োগ্যাস উৎপাদনের জন্য অ্যানারোবিক ডাইজেস্টার প্রযুক্তিও তৈরি করেছে সিএমইআরআই।
  • Link to this news (প্রতিদিন)