• রাজ্যে ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত, কবে মিলবে ভ্যাকসিন? জানিয়ে দিল আইসিএমআর
    প্রতিদিন | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • রাজ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। লাফিয় বাড়ছে আক্রান্তে সংখ্যা। এবার বাজারে আসতে চলেছে ডেঙ্গুর প্রতিষেধক! রবিবার কলকাতায় আইসিএমআর-এর ডিজি ডেঙ্গুর টিকা নিয়ে বড় ঘোষণা করেন। তাঁর কথায়, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে ডেঙ্গুর মরশুম শুরুর আগেই বাজারে টিকা চলে আসতে পারে। অর্থাৎ আগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ ডেঙ্গুর প্রতিষেধক পাওয়া যাবে। তবে প্রতিষেধক বাজারে আসার আগে তৃতীয় দফার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এ দিন শহরে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন আইসিএমআর-এর ডিজি। বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত ডেঙ্গু টিকার দ্বিতীয় দফার ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। সেই ট্রায়ালের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক ফলাফলে এই টিকা ‘ভালো’ কাজ করছে। তবে বর্তমানে তৃতীয় দফার ট্রায়াল চলছে। আর এই দফার ট্রায়াল শেষ হতে এখনও বেশ কিছুটা সময় লাগবে। তৃতীয় ট্রায়ালের রিপোর্টে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন মিললে আগামী বছরই হয়তো ডেঙ্গির টিকা বাজারে চলে আসবে।

    ডেঙ্গুর প্রস্তাবিত টিকার নাম ‘ডেঙ্গিঅল’। সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে আইসিএমআর এবং প্যানাসিয়া বায়াটেকের তৈরি এই টিকাটি ডেঙ্গুর চার ধরনের ভাইরাসের (ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩, ডেন-৪) বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তৈরি করা হয়েছে। একে বলা হয় দুর্বল করা জীবন্ত ভাইরাস-ভিত্তিক টিকা। ২০২৪-এ দেশের ১৯টি কেন্দ্রে ১০ হাজার ৩৩৫ জনকে নিয়ে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হয়। এই ভ্যাকসিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, এটিকে এক ডোজের টিকা হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল ও অনুমোদন হাতে পেলেই আগামী বছর থেকে ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত লাগামে সতর্কতার পাশাপাশি প্রতিষেধককেও হাতিয়ার করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

    পুজোর মুখে ডেঙ্গু নিয়ে চিন্তায় স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্যজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। হটস্পট বেছে বেছে ডেঙ্গু পরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে। ডেঙ্গু রুখতে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও দেওয়া হচ্ছে জোর। রাজ্যের ৮৫টি ব্লক, ২৭৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ২৯ টি পুরসভাকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। এসব এলাকায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও পুজোর প্যান্ডেলেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর জন্য পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছে স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)