আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে মাদ্রাসা বন্ধ নিয়ে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।
পরিষ্কার বললেন, ‘করা উচিত ছিল, সেই জন্যই করেছে রাজ্য সরকার। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তো একবার বলেছিলেন যে মাদ্রাসার আড়ালে কী কাজ চলছে। কিন্তু সেদিন পার্টির চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তিনি তার অবস্থান বদল করেছিলেন।’
শমীকের অভিযোগ, সেদিন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কথা যদি বামফ্রন্ট শুনত, তাহলে আজ সীমান্তবর্তী এলাকায় যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, সেটা হত না। তিনি সাফ বলে দেন, ‘একই শিক্ষা ব্যবস্থা সারা রাজ্যে চলবে, সারা দেশে চলবে। এটাই সরকারের ঘোষিত অবস্থান।’
উল্লেখ্য, রাজ্যে অননুমোদিত ও পরিকাঠামোহীন মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ করেছে সরকার। সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, নিয়ম বহির্ভূত ভাবে পরিচালিত হওয়ায় আরও প্রায় ১০০টি মাদ্রাসাকে শোকজ করা হয়েছে। দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মাদ্রাসায় সমীক্ষা চালানো হয়। যার মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত মাদ্রাসাগুলির পরিকাঠামো, অনুমোদন এবং পরিচালন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়।
সমীক্ষায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা ন্যূনতম পরিকাঠামো না থাকার বিষয়টি সামনে আসে। এরপরই সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর।
২৫২টি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের নোটিস পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, আরও প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। শোকজ করা মাদ্রাসাগুলির কাছ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে।
সেই জবাব খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে দপ্তর সূত্রে খবর। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের ২,৩৯৬ টি মাদ্রাসায় প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নেই বলেও জানা গিয়েছে।
সঠিক অনুমোদন নিয়ে চলছে ২,১৩২টি মাদ্রাসা। সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে যাচাইকরণ হয়েছে। কলকাতা সহ ২২টি জেলার সমস্ত মাদ্রাসার নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। যে সকল মাদ্রাসার অনুমোদন রয়েছে, সেগুলি চালু থাকবে।’
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছিলেন, জেলায় জেলায় কত অনুমোদন যুক্ত এবং কত অনুমোদনহীন মাদ্রাসা রয়েছে তা সমীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
এর পর জুন মাসের গোড়াতেই রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি মাদ্রাসাগুলির বর্তমান অবস্থা, পরিকাঠামো, ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা, শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র জানতে জেলা পর্যায়ে বিশেষ পরিদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিল রাজ্য সরকার। এ জন্য বিভিন্ন জেলার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দায়িত্ব দিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল।