নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী দিল কালীঘাট তৃণমূল, লড়াইয়ে নেই মমতা
eTV Bharat | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কলকাতা 13 সেপ্টেম্বর: দলীয় প্রতীক কোন শিবির পাবে তা এখনও ঠিক হয়নি । এরই মধ্যে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হচ্ছেন সঞ্চিতা প্রধান। রেজিনগর থেকে লড়ছেন রবিউল আলম চৌধুরী । এর আগে কংগ্রেস ও বামেরা প্রার্থী দিয়েছে । এবার তৃণমূলের মমতা শিবির প্রার্থী দিল । 'অস্থায়ী' বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কী করে সেটাই এখন দেখার । বিজেপিও কবে প্রার্থী দেয় সে দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের ।
নন্দীগ্রাম আসন থেকে জিতেছিলেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । একইভাবে ভবানীপুর থেকেও মমতাকে হারান তিনি । এরপর নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেন বলে সেখানে ভোট হচ্ছে । একইভাবে দুটি আসন থেকে জেতার পর রেজিনগর কেন্দ্রটি ছেড়ে দেন হুমায়ুন কবীর । সেখান থেকে তাঁর ছেলে লড়ছেন । হুমায়ন এখন নওদার বিধায়ক । নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী 6 অক্টোবর এই দুটি আসনে উপনির্বাচন হবে।
গত কয়েকদিন ধরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রতীক নিয়ে লড়াই চলছে। কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের মধ্যে এই লড়াই এখন নির্বাচন কমিশনের দরজায়। শনিবার কমিশন দু'পক্ষের বক্তব্য শুনেছে। তথ্য যাচাইও করা হয়েছে। এই আবহেই দুটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল কালীঘাট তৃণমূল।
নন্দীগ্রামে প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে বেশ জল্পনা ছিল। শোনা যাচ্ছিল খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এই কেন্দ্র থেকে লড়তে পারেন। ঋতপন্থী তৃণমূলের তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল, মমতা দাঁড়ালে তাঁরা প্রার্থী দেবেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে নামলেন না মমতা। জল্পনা ছিল অখিল গিরিকে নিয়েও। তাঁকে কলকাতায় ডেকে পাঠিয়েছিলেন মমতা।
শনিবার কালীঘাটে এসে তিনি জানান, "দল যে দায়িত্ব দেবে তা মানব।" তবে সূত্রের খবর, প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল না। কালীঘাট সূত্রে জানা যায়, অখিল গিরির বদলে এলাকার কাউকেই প্রার্থী করতে চাইছিল তৃণমূল। অখিল নিজেও এলাকার কোনও মহিলাকে প্রার্থী করার পক্ষে মত দেন। সেইমতোই সঞ্চিতা প্রধানকে নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। মনে করা হচ্ছে, প্রবীণ নেতা অখিল গিরিকে ভোট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
এদিকে, রেজিনগরে প্রার্থী হিসেবে রবিউল আলম চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ঋতব্রত শিবির সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, "ওই শিবির প্রার্থী দিতে পারে কিন্তু মানুষ ওদের তৃণমূল কংগ্রেস মনে করে না। এখানকার মানুষ ওই শিবিরের লোকদেরকে 'বালিশ চাটা' বলে। তৃণমূলের সংবিধান অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও দলের চেয়ারম্যান । তাঁর হাতেই প্রার্থীকে প্রতীক দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। মমতার ছবি আর প্রতীক ছাড়া ওই শিবির নির্বাচনে লড়াই করলে তারা 'নোটা'র থেকে কম ভোট পাবে।"
অন্যদিকে, ঋতপন্থী তৃণমূলের বিধায়ক মদন মিত্র নন্দীগ্রামের প্রার্থী নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, "আমার ধারণা মার্জিনটা 50 হাজার হয়ে যাবে। বিজেপি প্রার্থী 50 হাজার ভোটে জিতবেন। কারণ শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সঞ্জিতা বা বঞ্চিতা কোনও ফ্যাক্টরই নন।"
নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের পাশাপাশি অসমের নগাঁও উপনির্বাচনেও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে দলের হয়ে লড়বেন আব্দুল সালাম।