সালারে জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ, বোমাবাজি ! জখম এএসআই-সহ 3 পুলিশ কর্মী
eTV Bharat | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সালার, 14 সেপ্টেম্বর: পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীদের খণ্ডযুদ্ধে ধুন্ধুমার বাঁধল মুর্শিদাবাদের সালারে ৷ রবিবার রাতভর চলল সংঘর্ষ, বোমাবাজি ৷ ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন সালার এএসআই পদমর্যাদার এক পুলিশ কর্মী । জখম পুলিশ কর্মীর নাম সাদেক আলি । তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । সেখানে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে চিকিৎসক সূত্রে জানা গিয়েছে । পুলিশ ও গ্রামবাসীদের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধে আরও দুই পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন । খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার শচীন মক্কার ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে চারটি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় । গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে একাধিক টিআর গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ । এদিন বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে । সোমবার সকালেও অবাধে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ । যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ ।
জেলা পুলিশ সুপার শচীন মক্কার বলেন, "ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী রয়েছে । পুলিশের উপর যারা পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে, তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না । অপরাধীরা কোন রাজনৈতিক দলের তা দেখা হবে না । অপরাধীদের চিহ্নিত করে প্রত্যেককে হেফাজতে নেওয়া হবে । তার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে ।"
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে খাঁড়েরা গ্রামে জুয়ার আসর বসেছিল । খবর পেয়ে সালার থানার পুলিশ সেখানে হানা দেয় । আর এটিই ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে । এরপরই শুরু হয় জুয়ার আসরে থাকা গ্রামবাসী ও পুলিশের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ । পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রামবাসীরা বোমা ছুঁড়তে শুরু করেন । সেই বোমায় জখম হন এক এএসআই । দু'জন পুলিশ কর্মীর পায়ে বোমার স্প্লিন্টার লাগে । এরপই শুরু হয় ব্যাপক বোমাবাজি । পুলিশের পক্ষ থেকে কাঁদাতে গ্যাসের শেল ছোড়া হয় । গভীর রাত পর্যন্ত চলে গ্রামবাসী ও পুলিশের মধ্যে চলে খণ্ডযুদ্ধ ।
এরপর ঘটনাস্থলে আসে কান্দি, বড়ঞা ও খড়গ্রাম থানার পুলিশ । বহরমপুর থেকে জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনীও সেখানে পৌঁছয় । ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্বয়ং জেলা পুলিশ সুপার । গ্রাম প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে । সকাল থেকে পুলিশ গ্রামে ভাঙচুর শুরু করেছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের ৷ আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামের মহিলারা । গ্রামে এখনও তীব্র উত্তেজনা রয়েছে ৷