আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্তমান সময় আন্দোলনের সময়, নিজের অধিকার ও দাবি আদায়ের সময়— এই ভাষাতেই মুর্শিদাবাদের মাটি থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রের শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। শনিবার ডিওয়াইএফআই-এর মুর্শিদাবাদ জেলা ২৫তম সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে কে শত্রু আর কে প্রকৃত মিত্র, তা চিনে নেওয়ার ডাক দেন। সেলিম স্পষ্ট বলেন, কারা মানুষের ঐক্য ভেঙে দাঙ্গা ও হিংসা ছড়াতে চাইছে, আর কারা জাত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক করে দেশটাকে রক্ষা করার লড়াই চালাচ্ছে, তা বুঝে নেওয়ার মোক্ষম সময় এখন।
বক্তব্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে সেলিম বলেন, রাজ্যে এতদিন একটা মেকি ধোঁয়াশা তৈরি করে রাখা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, মমতা ব্যানার্জি হিজাব পরে এবং মৌলবিদের সঙ্গে নিয়ে মুসলিম ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে ভুল বুঝিয়েছেন যে তিনিই একমাত্র বিজেপিকে ঠেকাতে পারেন। কিন্তু সেই সুযোগে তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা তোলাবাজি আর লুটের সাম্রাজ্য কায়েম করেছে। একশো দিনের কাজ বন্ধ করা থেকে শুরু করে রেশন, বালি, কয়লা চুরি— তৃণমূল কোনও অপরাধ বাকি রাখেনি বলে তিনি দাবি করেন। জঙ্গল সাফ আর জমি দখলের রাজনীতিতে গোটা রাজ্যকে একটি লুটের বাজারে পরিণত করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অতীতের রাজনৈতিক সমীকরণ টেনে সেলিম অভিযোগ করেন, মমতা ব্যানার্জি আরএসএসের পরামর্শ ও আদবানি-বাজপেয়ীদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েই একসময় বাংলা থেকে কমিউনিস্ট ও লাল ঝান্ডাকে মুছে ফেলার শপথ নিয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে তিনি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, কিষেনজিকে সঙ্গে নিয়ে সে সময় শুভেন্দু বলেছিলেন লাল কাপড়ের কোনও টুকরোও থাকবে না। পঞ্চায়েত দখল থেকে শুরু করে বিধায়ক-সাংসদ কেনার খেলায় সে সময় তৃণমূলের গুন্ডারাজই চলেছে। তবে নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকে যাবতীয় আক্রমণ ও বুলডোজারের সামনে বামপন্থীরাই যে বুক চিতিয়ে লড়াই জারি রেখেছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে সেলিম বলেন, একমাত্র বামপন্থীদেরই হক কথা বলার হিম্মত আছে, আর তাই বিরোধীরা আজ লাল ঝান্ডাকে ভয় পাচ্ছে।
পুজোয় বামেদের বইয়ের স্টল নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক চাপানউতোর নিয়েও মুখ খোলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক। ‘শারদোৎসব’ শব্দে আপত্তি তুলে স্টল বন্ধের হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব কাজ গুন্ডারা করে এবং সরকারও এখন গুন্ডাদের মতোই আচরণ করছে। গত পনেরো বছর ধরে তৃণমূল এই আক্রমণ চালাত, আর এখন সংবিধানের শপথ নেওয়া বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরাও প্রকাশ্যে সেই একই হুমকি দিচ্ছেন। এই ধরনের হুমকি সম্পূর্ণ বেআইনি উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, আইনের শাসন ভাঙলে উসকানিদাতাদের তার দায় নিতে হবে। লাল ঝান্ডার ভয়ে প্রতিপক্ষ আজ স্বপ্নেও আঁতকে উঠছে উল্লেখ করে সেলিম জানান, সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির প্রশ্নে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে বামপন্থীরা রাস্তায় ছিল, রাস্তায় থাকবে।