মিল্টন সেন: অনেক আগে জমিটাই বিক্রি হয়ে গেছে। অথচ সরকারি খাতায় জ্বলজ্বল করছে "কাজী নজরুল ইসলাম মেমোরিয়াল জুনিয়র হাই মাদ্রাসা"র নাম। অবাস্তব! খোঁজ করে কয়েকটি গাছ, খালি জায়গা ছাড়া কিছুই মিললো না। বাস্তবে বৈঁচি বিলসড়া এলাকায় থাকা মাদ্রাসার কোনও অস্তিত্বই দেখা গেলো না।সরকারি তথ্য অনুযায়ী মাদ্রাসা নাকি রয়েছে হুগলির পান্ডুয়া ব্লকের বৈঁচির তারাজোল গ্রামে। সরকারি নথিতে মাদ্রাসার নাম উল্লেখ রয়েছে, কাজী নজরুল ইসলাম মেমোরিয়াল জুনিয়র হাই মাদ্রাসা নামে। অথচ গ্রামে গিয়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও মাদ্রাসার দেখা পাওয়া গেলনা।
স্থানীয়দের থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই নামে একটা মাদ্রাসা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তার কোনও পরিকাঠামোই আর গড়ে ওঠেনি। জানা গেছে, বৈঁচি-বিলসড়া রোডের পাশে মাদ্রাসা তৈরির জন্য একসময় জায়গা নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই জায়গাটি বিক্রি হয়ে গিয়েছে। যেখানে মাদ্রাসা হওয়ার কথা ছিল, সেখানে বর্তমানে সারিবদ্ধভাবে বড় বড় গাছ লাগিয়ে বাউন্ডারি দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার হয়েছে চারমাস হবে। ক্ষমতায় আসার পর সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই তালিকায় থাকা ২৫২টি মাদ্রাসার মধ্যে নাম রয়েছে হুগলির বৈঁচির এই মাদ্রাসারও। অনুমোদন থাকা না থাকা প্রাসঙ্গিক বিষয়। আগে তো মাদ্রাসার অস্তিত্ত্ব থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, সেই মাদ্রাসার কোনও অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া গেলোনা।
গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল রহমান জানিয়েছেন, কয়েক ১৩ বছর আগে তাঁর ভাই রাকিবুল রহমান ও কয়েকজন শিক্ষক মিলে মাদ্রাসা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই মোতাবেক ২০১৩ সালে বৈঁচি-বিলসড়া রোডের পাশে আব্দুল কাসেদের স্ত্রীর কাছ থেকে প্রায় এক বিঘা জমি লিজ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে একটি অস্থায়ী টিনের ছাউনি দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। দু'বছর চেষ্টা করেও সরকারি অনুমোদন মেলেনি, কোনও আর্থিক সহযোগিতাও পাওয়া যায়নি। তাই মাদ্রাসা আর চালু করা সম্ভব হয়নি। পরে জমির মালিককে জমি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি খাতায় কাজী নজরুল ইসলাম মেমোরিয়াল জুনিয়র হাই মাদ্রাসার নাম রয়ে গেছে। রাজ্য সরকার যে ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে, সেই তালিকায় এই না হওয়া মাদ্রাসার নামও রয়েছে।
ওই জমির বর্তমান মালিক শেখ মীরসাদ। তিনি বলেছেন, মাদ্রাসা তৈরির জন্য একটা চালা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু একটা ঝড়ে সেটা ভেঙে যায়। তারপর আর তৈরি হয়নি। শুনেছিলাম কয়েকজন বাচ্চাও এসেছিল। পরে জমির মালিক জমি বিক্রি করে দেন। তিনি কিনে নেন। হতে পারে কেউ চাকরি পাওয়ার আশায় বা সরকারি অনুদান নেওয়ার জন্য এই নামটা তুলেছিল। গ্রামের অন্য এক বাসিন্দা মহম্মদ মফিজ উদ্দিন বলেন, অস্থায়ী হলেও, বেশ কয়েকটা ঘর ছিল। তার সঙ্গে বাথরুমও ছিল। তিনি দেখেছেন। মাদ্রাসা হবে শুনেছিলেন তিনি। কিন্তু তারপর আর হয়নি। হলে ভালোই হতো। মাদ্রাসা হবে, তাই একবার সরকারি আধিকারিকরা পরিদর্শন করতেও এসেছিল।