মনিরুল হক, কোচবিহারঃ দুপুরে ব্যস্ত পাড়া। এরই মাঝে আচমকা চিৎকার। তার পর বাড়ির বাইরে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তি। ঘরের ভিতরে গুরুতর জখম মহিলা। সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে কোচবিহার শহরের হাজরাপাড়ায় এমনই ঘটনার অভিযোগ উঠেছিল শুক্রবার। আর তার পর কয়েক ঘণ্টার লড়াই। শনিবার রাতে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যু হল প্রেমিক হামিদুল হকের (৪৪)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে হামিদুল পেট্রোল নিয়ে হাজরাপাড়ায় ঝিলিক বর্মনের ভাড়া বাড়িতে যান। অভিযোগ, সেখানে ঝিলিকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। সেই সময় দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তখনই হামিদুলের শরীরেও আগুন ধরে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় দু’জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় হামিদুলের। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রথম থেকেই দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। বার্ন ইউনিটে তাঁদের চিকিৎসা চলছিল। ঝিলিকের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক ভাবে বেশি গুরুতর ছিল বলে হাসপাতাল সূত্রের দাবি। তবে পরে হামিদুলের অবস্থারও অবনতি হয়।
শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঝিলিক এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, ঠিক কী কারণে হামিদুল ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝিলিকের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। হাজরাপাড়ায় মা ও ছেলেকে নিয়ে ভাড়া থাকেন ঝিলিক। তাঁর স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছে। গত দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে হামিদুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। হামিদুল নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন বলেও জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি সেই সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ঝিলিক নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন এমন বিষয়কে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছিল বলেও জানা গিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে অশান্তি চলছিল। শুক্রবার সেই অশান্তিই কি আগুনের ঘটনায় গড়াল? তদন্তে আপাতত সেই প্রশ্নই সামনে।
কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানিয়েছে, হামিদুলের বাড়ি কোচবিহার শহর লাগোয়া হরিণচওড়া এলাকায়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাড়িতে ভিড় করেন প্রতিবেশীরা। তবে সংবাদমাধ্যমের সামনে কেউ মুখ খুলতে চাননি। হামিদুলের পরিবারেরও কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্য দিকে, ঝিলিকের বয়ান নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। তাঁকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, ঘটনার পিছনে সুনির্দিষ্ট কারণই বা কী তা জানতে তদন্তকারীরা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছেন। ঝিলিকের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, হামিদুলের পাঠানো কয়েকটি চিঠিও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
একজনের মৃত্যু, অন্য জন গুরুতর আহত। সেই দুপুরে হাজরাপাড়ার ঘরের ভিতরে ঠিক কী ঘটেছিল, তার খোঁজেই বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে পুলিশ।