• রেজিনগরে প্রার্থীর 'ভাবমূর্তি'তেই ভরসা মমতার!
    আজকাল | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের দুঃসময়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় রেজিনগর উপনির্বাচনে মমতা পন্থী ঘাসফুল শিবির ফের একবার প্রাক্তন বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরীর ওপর ভরসা রাখলো। রবিবার সন্ধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। 

    রেজিনগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরীকে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে টিকিট দেয়নি। পরিবর্তে রবিউল আলম চৌধুরীকে বেলডাঙা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে তিনি বিজেপি প্রার্থী ভরত কুমার ঝাওয়ারের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। 

    যদিও ৬ মাস ঘুরতে না ঘুরতেই রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে রবিউল আলম চৌধুরীকে ফের একবার মমতা ব্যানার্জি তাঁর দলের প্রার্থী করলেন। 

    ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর রেজিনগর এবং নওদা দু'টি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি রেজিনগর আসন থেকে পদত্যাগ করায় আগামী ৬ অক্টোবর ওই আসনে উপনির্বাচন হতে চলেছে। 

    ২০১১ সালে হুমায়ুন কবীর প্রথমবার রেজিনগর আসন থেকে কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী হয়েছিলেন। তৃণমূলে যোগ দান করে হুমায়ুন কবীর বিধায়ক পদ ত্যাগ করায় ২০১৩ সালে রেজিনগরে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে হুমায়ুন কংগ্রেস প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। 

    ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতীকে রেজিনগর থেকে জয়ী হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে রবিউল তৃণমূলে যোগ দেন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে রবিউল আলম চৌধুরী রেজিনগর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী হয়েছিলেন। 

    রেজিনগরের সাধারণ মানুষের মধ্যে 'স্বচ্ছ ভাবমূর্তি'র মানুষ হিসেবে রবিউল আলম চৌধুরীর যথেষ্ট সুখ্যাতি রয়েছে। তাঁর ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস রেজিনগর উপনির্বাচনে ওই কেন্দ্রটি পুনরুদ্ধারের জন্য ফের রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করল বলে তথ্যভিজ্ঞ মহলের মত।

    মমতা পন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর রবিউল আলম চৌধুরী বলেন ," আমার দলের এখন কিছুটা খারাপ সময় চলছে। তবে আমরা লড়াই করে বড় হয়েছি। তাই উপনির্বাচনে মাটি ছেড়ে যাওয়ার কোন প্রশ্নই নেই।"

     তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলায় কালিঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেই অবস্থায় রেজিনগর উপনির্বাচনে লড়া কতটা কঠিন এই প্রশ্নের উত্তরে রবিউল আলম চৌধুরী বলেন," কমিটি ভেঙে দিলেও তৃণমূল কংগ্রেসের লোকেরা এখনও রয়ে গিয়েছে। আমি আজই তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসছি। এরপর ঠিক হবে কীভাবে রেজিনগর বিধানসভা এলাকায় আমরা প্রচার করব, দেওয়াল লিখন করবো।"

    তিনি বলেন ,"রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের বিজেপি আমার প্রধান প্রতিপক্ষ হতে চলেছে। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব এই কেন্দ্রে জয়ী হয়ে দলের মুখ রক্ষা করতে। আমি আশাবাদী যারা এখনও মমতা ব্যানার্জিকে মন থেকে ভালোবাসেন তাঁরা এই নির্বাচনে দু'হাত তুলে আমাকেই আশীর্বাদ করবেন।"

    অন্যদিকে ঋতব্রত পন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন,"আমাদের প্রার্থীর নামও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। রেজিনগরে আমাদের প্রার্থীও থাকবে। কাউকে এক ইঞ্চি জমি আমরা ছাড়বো না। দু-একদিনের মধ্যে আমরা রেজিনগর উপনির্বাচনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দেব। "
  • Link to this news (আজকাল)