মমতা ব্যানার্জি নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে ভোট লড়ুন। গত কয়েকদিনে এমন আহ্বান এসেছে। অখিল গিরি প্রার্থী হওয়ার জল্পনা এসেছে। তবে এসবের মাঝে, কালীঘাট তৃণমূল চমকে দিয়েছে, অনামী সঞ্চিতাকে শুভেন্দু গড়ে প্রার্থী করে। ছাত্র রাজনীতি, উত্তর বয়ালের প্রাথমিক স্কুলে পড়ানো, রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া সঞ্চিতা প্রধান (দে) এবার ভোট লড়বেন বিধানসভা উপনির্বাচনে। ২০০৮ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। পঞ্চায়েত ভোট লড়েছেন। ২০১৪ সালের টেট দুর্নীতি মামলায় চাকরিও হারিয়েছিলেন। যদিও পরে আদালতের নির্দেশে চাকরি ফিরে পান, তেমনটাই জানাচ্ছেন সঞ্চিতা। তৃণমূলের ভাল সময় দেখেছেন, আবার ভাঙন পর্বে প্রার্থী হয়েছেন। তাতে কি অভিমান মনে? নাকি উত্তেজনা? আজকাল ডট ইন-কে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলছেন, 'কর্মীদের আবার অভিমান কিসের। যদি কঠিন সময় ভেবে তাই করব, তাহলে কেমন কর্মী?' জয় নিয়ে ভাবছেন আদৌ? ভোটের রূপরেখা ভেবেছেন? মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে কথা হল? নন্দীগ্রামে রাত আরও গভীর হওয়ার আগে, ঝটপট উত্তর দিলেন কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী।
পরিস্থিতি আগের মতো হলে কি আদৌ প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ভাবা হত? নাকি সময় কঠিন বলেই এগিয়ে দেওয়া হল তাঁকে। প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম শুনে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া কী সঞ্চিতা প্রধানের?
বলছেন, 'প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া সেরকম কিছু নয়। আমি ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে বিগত কয়েকবছর এই দলের প্রার্থী হয়েছি। আনন্দ, উত্তেজনার সময় নয়, এটা আসলে কঠিন সময়ে লড়াই। লড়াই আসলে লড়াই।'
গত কয়েকদিন ধরে জল্পনা প্রার্থী নাম নিয়ে। ঋতব্রত শিবির বলেই দিয়েছিল মমতা ব্যানার্জি প্রার্থী হলে, তারা প্রার্থী দেবে না আর। সঞ্চিতা নিজে কবে জানলেন? মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন?
বলছেন, 'আমিতো আজই জেনেছি।'
প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার আগে কথা হল দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে? মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে?
সঞ্চিতা বলছেন, 'না জেলাস্তর থেকে কথা হয়েছে কেবল।'
শুভেন্দু গড়ে প্রার্থী, নিজেও জানলেন আজই। এই অল্প সময় রুটম্যাপ সাজাবেন কী করে? ভোটের প্রচার কেমন করে করবেন?
সঞ্চিতা ভরসা রাখছেন দলের এঁকে দেওয়া ব্লু প্রিন্টের দিকেই। বলছেন, ' আজ রাত্রি হয়ে গিয়েছে, কাল থেকে, দল যেভাবে বলবে, কাজ হবে সেভাবেই।'