• জিডিপির প্রোপাগান্ডা! মোদির ভারতে পিছচ্ছে শিল্প-বাণিজ্য
    বর্তমান | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: ‘উন্নয়নশীল’ তকমা ঘুচিয়ে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’। আম জনতাকে এই খোয়াব দেখাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তারই প্রচার-অস্ত্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম তিনমাসে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি। এই পরিসংখ্যান নিয়ে তাবড় অর্থনীতিবিদরা প্রশ্নও তুলেছেন। কিন্তু এবার আর কোনো বিরোধী নয়। আসল পরিস্থিতি প্রকাশ্যে এনেছে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। রিপোর্ট দিয়েছে দেশের শিল্প-বাণিজ্য নিয়ে। তাদের পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ব্যবসার হাল মোটেই অনুকূল নয়। নামজাদা কর্পোরেট সংস্থাগুলির বিক্রিবাটা বা মুনাফা বৃদ্ধি দূরঅস্ত, বরং গত এক বছরে তা উলটোপানে চলতে শুরু করেছে।

    এদেশে ব্যবসার পরিস্থিতি কেমন? মোট ১০টি শিল্পক্ষেত্র বেছে নিয়েছিল এসবিআই। তালিকায় আছে ব্যাংক, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য-প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, গাড়ি, ওষুধ, ধাতু, সিমেন্ট, প্রতিরক্ষা ও বিমান পরিষেবা এবং জ্বালানি। প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশের বৃহত্তম তিনটি করে সংস্থার আর্থিক ফলাফলের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে রিপোর্টে। বলা হয়েছে, দেশের প্রধান দশটি শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে গত অর্থবর্ষে তিনটিতে বিক্রিবাটা কিছুটা বেড়েছে। তালিকায় আছে গাড়ি, সিমেন্ট ও প্রতিরক্ষা। কিন্তু বাকি সাতটি ক্ষেত্রে ধস নেমেছে ব্যবসায়। কঠিন পরিস্থিতি বিদ্যুতে। সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের নিরিখে ব্যবসার অঙ্ক প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। একই অবস্থা ধাতুতেও—ব্যবসা নেমে এসেছে ৩.৭৯ কোটিতে। রিপোর্টে সাফ বলা হয়েছে, ইরান ও আমেরিকার লড়াইয়ের প্রভাব পড়ার আগেই জ্বালানি ক্ষেত্রে এই ধস নেমেছে। ১৮.৬৫ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে নেমেছে ১৪.২৮ লক্ষ কোটি টাকায়।

    ব্যবসা খারাপ হলে মুনাফায় তার প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু এক্ষেত্রে আরও করুণ অবস্থা প্রায় সব শিল্পক্ষেত্রেই। যেমন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বৃহত্তম তিনটি সংস্থার মুনাফা এক বছরে কমেছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। অঙ্কটা গত চার বছরে সর্বনিম্ন। জ্বালানি ক্ষেত্রে মুনাফা গত অর্থবর্ষে ছিল ১.৩৩ লক্ষ কোটি টাকা। তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। এই সেক্টরে মুনাফা গত পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন। এক বছরে ধাতু শিল্পে মুনাফা পাঁচ বছরে ১.৩ লক্ষ কোটি থেকে নেমে এসেছে ৬৭ হাজার কোটিতে। তথ্য বলছে, ১০টি সেক্টরের মধ্যে আটটিতেই মুনাফার বহর কমেছে।
    শিল্পক্ষেত্রকে উৎসাহ দিতে আয়করে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্র। কমানো হয়েছে জিএসটি। মেক ইন ইন্ডিয়া, পিএলআইয়ের মতো আর্থিক উৎসাহমূলক প্রকল্প চালু হয়েছে ঘটা করে। কিন্তু ব্যবসার হাল ক্রমশ উলটো পথে হাঁটছে—বলছে সেরা সংস্থাগুলির আর্থিক রিপোর্টই। মেক ইন ইন্ডিয়ার সিংহের ছবি কিন্তু এখন আর ফলাও করে সর্বত্র দেখা যায় না। প্রধানমন্ত্রী নিজেও জোর দেন সোনা কম কেনা এবং বিদেশ না যাওয়ায়। প্রেসক্রিপশনের সবটাই আম জনতার জন্য। আর সংস্থাগুলির জন্য? শুধুই আশ্বাস এবং ৭.৮ শতাংশ জিডিপির হাতছানি। বিরোধীরা যাকে বলছে প্রোপাগান্ডা। তাদের প্রশ্ন, শিল্প-বাণিজ্যে পিছন দিকে হেঁটে আদৌ আমাদের বিকশিত হওয়া সম্ভব কি?
  • Link to this news (বর্তমান)