• রাজ্যজুড়ে রক্তচক্ষু ডেঙ্গুর! কলকাতার কী অবস্থা?
    আজকাল | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্ষার মাঝেই ফের রাজ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু। ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী আক্রান্তের গ্রাফ। গত এক মাসে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই পাঁচ হাজারের গণ্ডি পেরিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্য সরকার ও স্বাস্থ্য দপ্তর। জেলায় জেলায় বাড়ানো হয়েছে সচেতনতা ও নজরদারি।

    স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেই ডেঙ্গির প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি। আক্রান্তের নিরিখে শীর্ষে মুর্শিদাবাদ। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১০৭২। দ্বিতীয় স্থানে কলকাতা, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০-র বেশি। তৃতীয় স্থানে উত্তর ২৪ পরগনা—আক্রান্ত ৪৫০। নদিয়াতেও আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০-র বেশি। মালদায় আক্রান্ত প্রায় ৪০০।

    এ ছাড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩৬৬ জন, হাওড়া ও হুগলিতে ৩২৫ জন, পূর্ব বর্ধমানে ২৫৬ জন, পশ্চিম বর্ধমানে ১৫৪ জন, বাঁকুড়ায় ১২৭ জন, পূর্ব মেদিনীপুরে ১২৬ জন, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১০৪ জন, ডায়মন্ড হারবারে ৮৮ জন এবং ঝাড়গ্রামে ৫৪ জন।

    পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই পরিস্থিতির উদ্বেগজনক ছবি স্পষ্ট। গত ৬ অগস্ট রাজ্যে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৪১০। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সেই সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গি বৃদ্ধির পিছনে শুধু মানুষের অসচেতনতা নয়, আবহাওয়ার পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এল নিনো-প্রভাবিত আবহাওয়ায় কখনও তীব্র রোদ, আবার কখনও বৃষ্টি—এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জায়গায় জল জমে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। আর সেই জমা জলই হয়ে ওঠে ডেঙ্গিবাহী এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযুক্ত পরিবেশ।

    তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একদিকে যেমন স্বাস্থ্য দপ্তরের নজরদারি ও সচেতনতা অভিযান চলছে। তেমনই সাধারণ মানুষকেও বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, টব, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা আশপাশের যে কোনও জায়গায় জল জমে থাকছে কি না, তা নিয়মিত নজরে রাখার পরামর্শ স্বাস্থ্য দপ্তরের।

    এ বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, "ডেঙ্গু সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেলও, তেমন ভয়ের কিছু নেই। পাঁচ হাজার আক্রান্তের পরিমাণ, মৃতের নয়। ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্য দপ্তরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিমুহূর্তে কাজ করছে।" তাঁর কথায়, "বাড়ির আশপাশে কোনওভাবেই জল জমতে দেওয়া যাবে না, কারণ জমা পরিষ্কার জলেই ডেঙ্গুবাহী মশা বংশবিস্তার করে।"

    ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত রুখতে তাই স্বাস্থ্য দপ্তরের বার্তা একটাই—সচেতনতা এবং জমা জল নির্মূল, এই দুই অস্ত্রেই ঠেকাতে পারা যাবে ডেঙ্গুর দাপট।
  • Link to this news (আজকাল)