• কোনো পুজোর উদ্বোধন করব না: শংকর
    বর্তমান | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: গণেশপুজো থেকেই উদ্বোধনে মাতলেন বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা। রবিবার তাঁদের কয়েকজন শিলিগুড়িতে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন করেন। সেই তালিকায় দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা থেকে অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন রয়েছেন। কিন্তু, এই প্রচলিত স্রোতে গা ভাসাচ্ছেন না পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। তিনি কোনো পুজোর উদ্বোধন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকী কোনো ক্লাব বা পুজো কমিটির সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত থাকবেন না। ফলে গণেশপুজো থেকে শুরু করে দুর্গাপুজো— বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন যাঁকে উদ্বোধক হিসাবে রাখার পরিকল্পনা করেছিল, তাঁদের অনেককেই সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে হচ্ছে। 

    এদিন অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মাটিগাড়া, উত্তরায়ণ ও শিবমন্দিরে গণেশপুজোর একাধিক মণ্ডপের উদ্বোধন করেন। আজ, সোমবার তিনি বেশ কয়েকটি মণ্ডপের উদ্বোধন করবেন। পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, উৎসবে ছিলাম-আছি-থাকব। গণেশপুজোর মতো বিশ্বকর্মাপুজো, দুর্গাপুজো, কালীপুজো সহ বিভিন্ন পুজো ও উৎসবে আমন্ত্রণ পেলে যাব। আশা করছি, এবার পুজো উদ্বোধনে গতবছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। এদিন কলেজপাড়ায় গণেশপুজোর একটি মণ্ডপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা গৌতম দেবের সঙ্গে হাত মেলান সাংসদ রাজু বিস্তা। তিনি সেই মণ্ডপের উদ্বোধন করেন। তাঁর সঙ্গে বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি অরুণ মণ্ডলও ছিলেন। 

    এদিকে, শংকর জানান, জনপ্রতিনিধি বা মন্ত্রী হিসাবে তিনি কোনো পুজোর উদ্বোধন করবেন না। একইসঙ্গে কোনো পুজো কমিটিতেও তাঁর নাম থাকবে না। তবে বিধায়ক হিসাবে পুজোর সময় তিনি মানুষের সঙ্গে থাকবেন। বিভিন্ন মণ্ডপে যাবেন, পরিবারের সঙ্গে প্রতিমা দর্শন করবেন। উৎসবে অংশ নেবেন। 

    শংকরের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে অবশ্য নানা ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ রাজনৈতিক খোঁচা দিয়ে বলছেন, সিপিএম থেকে উঠে আসা শংকর এখনও মার্কসীয় ভাবধারায় বিশ্বাসী বলেই হয়তো পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া বা উদ্বোধকের ভূমিকা নেওয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখছেন। তবে এই ব্যাখ্যা কার্যত উড়িয়ে দিয়ে শংকর বলেন, এসব অপপ্রচার। আমার গলায় কত দেবদেবীর মালা ও লকেট রয়েছে। 

    তাহলে কেন এই সিদ্ধান্ত? তাঁর ব্যাখ্যা, বিরোধী দলের বিধায়ক হিসাবে গত ৫ বছর তিনি দেখেছেন, জনপ্রতিনিধি বা মন্ত্রীকে পুজোর উদ্বোধক করা হলে অনেকেরই গাত্রদাহ হয়। আমি কারও গাত্রদাহের কারণ হতে চাই না। তাই কোনো পুজোর উদ্বোধক হব না। 

    তবে পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত না হওয়ার পিছনে অন্য কারণ রয়েছে বলেও জানান শংকর। তাঁর বক্তব্য,জাঁকজমক করে পুজো করে এলাকার প্রভাবশালী হওয়ার প্রবণতা পছন্দ করি না। পুজো সাধারণভাবে হলেও ক্ষতি নেই। সকলেই যাতে আনন্দ করে অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেটাই আমার লক্ষ্য।
  • Link to this news (বর্তমান)