সংবাদদাতা, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে টোটোর দৌরাত্ম্যে যানজটে নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এটা রোজকার চিত্র। রাস্তার দু›পাশে নো-পার্কিং বোর্ড উপেক্ষা করে যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে টোটো। টোটো চালকদের হঠাতে পুলিশ নিরব বলে অভিযোগ উঠছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নো-পাকিং জোনে টোটো দাঁড়িয়ে থাকলেও পুলিশের সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ থাকে না। অথচ দশ, কুড়ি মিনিটের জন্য ওষুধ কিনতে দোকানের সামনে বাইক রাখলেই জরিমানা গুনতে হচ্ছে। বাইকের নম্বর প্লেটের ছবি তুলে অনলাইনে হাজার টাকার জরিমানা, চালান পাঠানো হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ওষুধ ব্যবসায়ীরাও পুলিশের এহেন ভুমিকায় প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপিডি বিভাগ সোম থেকে শনিবার খোলা থাকে। এই কদিন ওপিডি বিভাগেই গড়ে ছ’হাজার রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন। রোগীর সঙ্গে তাঁদের পরিবারের লোকজনও থাকেন। এছাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রচুর রোগী ভরতি রয়েছেন। হামেশাই রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকছে, বের হচ্ছে। আর সেই ঢোকা বেরোনোর গেটেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যানজট সমস্যার জন্য দীর্ঘদিন ধরে টোটো চালকদের দিকেই অভিযোগের আঙুল উঠছে। মেডিকেলের ভিতরে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে টোটো। মেইন গেটে দাঁড়িয়েই যাত্রী ওঠানো-নামানোর প্রতিযোগিতা চলছে। ফলে ব্যস্ততম রাস্তার যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। সম্প্রতি যানজট নিয়ন্ত্রণে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে পুলিশ নো-পার্কিং বোর্ড বসিয়েছে। তাতেও থোরাই কেয়ার মনোভাব টোটো চালকদের। বাসিন্দাদের অভিযোগ, টোটো চালকদের ঘাড়ে শাস্তির খাঁড়া নেমে না এলেও বাইক চালকরা রেহাই পাচ্ছেন না। বাইক দাঁড় করিয়ে রাখলেই কিছুক্ষণের মধ্যে মোবাইলে ভেসে উঠছে জরিমানার চালানের নোটিস। চালতিয়া এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, রাস্তার পাশে বাইক রেখে ওষুধের দোকানে ওষুধ নিতে পনেরো মিনিটও সময় খরচা হয়নি। বাড়ি ফিরতেই মোবাইলে এক হাজার টাকার ফাইনের নোটিস চলে এল। কোনো পার্কিং জোন নেই। ওষুধ কিনতে এসে মানুষ কোথায় বাইক রাখবে? পুলিশের এক কর্তা জানান, মেডিকেল কলেজের সামনে কোনো গাড়িই দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না। ধীরে ধীরে সেদিকেই এগনো হচ্ছে। সতর্ক করার পর টোটো চালকরাও রেহাই পাবে না।