চন্দ্রকোণায় ৩৫ বছরের গৃহবধূর সরকারি বয়স ১০৬, প্রযুক্তির ভুল! শোধরানোর দায়িত্ব নিলেন বিধায়ক
বর্তমান | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদদাতা, ঘাটাল: স্বামীর বয়স ৪৫, আর স্ত্রীর ১০৬! শুনতে অবাক লাগলেও এমনই বিড়ম্বনার শিকার হয়ে বছরের পর বছর ধরে সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের এক গৃহবধূ। ডিঙাল গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণা পালের বাস্তবে ৩৫ বছর বয়স হলেও পরিচয়পত্রে ভুলের জেরে সরকারি খাতায় তিনি প্রবীণতম নাগরিক।
জানা গিয়েছে, আধার কার্ডে কৃষ্ণা দেবীর জন্মসাল উল্লেখ করা হয়েছে ১৯২০। ফলে নথির হিসাবে তাঁর বর্তমান বয়স দাঁড়িয়েছে ১০৬ বছর। অথচ বাস্তবে তিনি ৩৫ বছরের গৃহবধূ। এই মারাত্মক ভুলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রেশন কার্ড বা স্বাস্থ্যসাথীর মতো সরকারি পরিষেবার জন্য তিনি আবেদন জানাতে পারছেন না। পেশায় সাইকেল মিস্ত্রি স্বামী অষ্টম পাল গত ১৪ বছর ধরে স্ত্রীর এই ভুল সংশোধনের জন্য প্রশাসনের এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। ঘাটাল মহকুমা দপ্তর, ব্লক অফিস, বিভিন্ন আধার সেবা কেন্দ্র এমনকী আধার কেন্দ্রে গিয়েও মেলেনি সুরাহা।
সম্প্রতি ওই ব্লকের মনোহরপুরে আয়োজিত একটি জনসংযোগ কর্মসূচিতে চন্দ্রকোণার বিধায়ক সুকান্ত দলুইয়ের কাছে নিজেদের অসহায়তার কথা জানান ওই দম্পতি। কৃষ্ণাদেবী আক্ষেপ করে বলেন, বাস্তবে আমার বয়স ৩৫। অথচ কার্ডে ১০৬-এর বেশি বয়স দেখানোর জন্য সরকারি সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি না। কোনো প্রকল্পে নাম তুলতে গেলেই বয়সের কারণে তা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরছি, কেউ কথা শুনছে না।
স্বামী অষ্টম পাল বলেন, সামান্য সাইকেল সারাই করে সংসার চালাই। স্ত্রীর নথি ঠিক করতে বহু টাকা খরচ করে জেলাজুড়ে কত অফিসে গিয়েছি তার হিসেব নেই।
বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক সুকান্ত দোলই। তিনি বলেন, বিষয়টি আমি মন দিয়ে শুনেছি এবং নথি খতিয়ে দেখেছি। প্রযুক্তিগত ভুলের কারণে এত বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে এনে খুব দ্রুত যাতে সমস্যার সমাধান হয়, তার দায়িত্ব আমি ব্যক্তিগতভাবে নিচ্ছি।