তেহট্টে নাবালিকা বধূর সন্তান প্রসব বাপেরবাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মামলা
বর্তমান | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদদাতা, তেহট্ট: নাবালিকা বধূ সন্তান প্রসব করায় তার বাপেরবাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে তেহট্ট থানার পুলিশ। ওই নাবালিকা বধূকে চিকিৎসা করাতে এসে চিকিৎসকের পরামর্শে জরুরি ভিত্তিতে সন্তান প্রসবের জন্য মেদিনীপুরের একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। সন্তান প্রসবের পর নথিপত্র পরীক্ষার সময় আধার কার্ডে বয়স দেখে সন্দেহ হওয়ায় জন্মের শংসাপত্র চায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। আর সেই জন্ম শংসাপত্র পেতেই জানা যায়, সন্তান প্রসব করা ওই বধূ অপ্রাপ্তবয়স্ক। এরপরই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ থানায় খবর দেয়। যদিও পুলিশ আসার আগেই ওই নাবালিকা বধূর বাপেরবাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির নার্সিংহোম থেকে চলে যায়।
পুলিশ ও নার্সিংহোম সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বেতাই এলাকা থেকে কয়েকজন ওই গর্ভবতী নাবালিকা বধূকে চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান, পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এরপরই তাঁর সিজার করা হয়। সন্তান প্রসবের পর শুরু হয় ভর্তির নথিপত্র তৈরির কাজ।
সেই সময় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়া হয় ওই বধূর আধার কার্ড। তাতে থাকা বয়স দেখে সন্দেহ হয় কর্তৃপক্ষের। বয়স নিশ্চিত করার জন্য জন্মের শংসাপত্র চাওয়া হয় পরিবারের কাছে। নথি দেখার পরই জানা যায় ওই বধূ এখনো প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি।
এরপর তেহট্ট থানায় খবর দেয় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। যদিও পুলিশ পৌঁছানোর আগেই বধূর বাপেরবাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সেখান পালিয়ে যায়। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্কের বিয়ে এবং সন্তান প্রসবের ঘটনায় আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক মা ও সদ্যোজাতের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।