গোবরডাঙার মেয়ে, তাঁর কথা ও সুরে গান গেয়েছেন শ্রেয়া ঘোষাল, কে এই তমালিকা
এই সময় | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভেবেছিলেন গবেষণা করবেন। তাই সবটুকু মন দিয়েছিলেন পড়াশোনাতেই। সে জীবনে গান ছিল, তবে ল্যাদখোর প্রেমিকের মতো। এই যেমন ইচ্ছে হলে অঙ্ক খাতার পিছনে লিখে রাখতেন গানের কথা। পছন্দ না হলে সদ্যোজাত লিরিক্সগুলির জায়গা হতো জানলার বাইরে অথবা ঘরের ডাস্টবিনে। গান শিখেও ছিলেন। তবে সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার চাপে, গানের চর্চা খানিক গোঁত্তা খাওয়া ঘুড়ির মতো মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। গানের সঙ্গে এমন অদ্ভুত সম্পর্কের টানাপড়েনের মাঝে রিসার্চ করার ভাবনা নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিজিক্সে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর। তার পর? কোন সোনার কাঠির ছোঁয়ায় গানই জীবনের ধ্রুবতারা হয়ে উঠল, এখনও বুঝে উঠতে পারেন না টলিউডের নতুন কম্পোজ়ার-লিরিসিস্ট তমালিকা গোলদার। তাঁর কথায় ‘হয়তো এটাই আমার ডেস্টিনি ছিল।’
মনের মধ্যে যে ভাবনা আঁকিবুকি কাটে, জীবনে খুব কম ক্ষেত্রেই সেটা প্রতিফলিত হয়। তমালিকাও সেটা বিশ্বাস করেন। না হলে তিনি লিখবেন কেন, ‘যে আঁধারে এসেছিলে চুপিচুপি/আলো জ্বেলে তাকে সাজাই/ কী মুখোশে লুকোলে বহুরূপী/ এ ছলনা কাকে জানাই।’ আবার কিছু স্বপ্ন দেখার আগেই সত্যি হয়ে যায়। গোবরডাঙার এই মেয়ে কখনও ভাবেননি তাঁর বানানো গান গাইবেন শ্রেয়া ঘোষাল। তাও একবার নয়, দু’বার। তমালিকা গল্প করছিলেন, ‘শ্রেয়া ঘোষাল গান রেকর্ড করছেন, আমি সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে উল্টোদিকে বসে। এই স্বপ্ন দেখার সাহসও পাইনি। অথচ সেটাই সত্যি হয়ে গেল।’ অবশ্য সৃজিত মুখোপাধ্যায় সুযোগ না দিলে, তাঁর উপর ভরসা না করলে যে এ সব কিছুই হতো না সেটা বার বার বলেছেন তমালিকা।
‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনার ভার সৃজিত তুলে দিয়েছিলেন তমালিকার হাতে। ভরসার ভিত আরও মজবুত হলো কি না, সেই রিপোর্ট কার্ড অবশ্য পরিচালক দেবেন। তবে দর্শকমহলে তমালিকার গানের কথা, সুর বেশ প্রশংসিত। সৃজিতের সঙ্গে তমালিকার এটা তৃতীয় কাজ। এর আগে ২০২৩-এ ‘দুর্গ রহস্য’-সিরিজ়ে ‘এমনি এমনি এসো’ গানটির অ্যারেঞ্জমেন্ট করেন। ‘লহ গৌরাঙ্গ’ ছবিতেও মিউজ়িক কম্পোজ়ার হিসেবে কাজ করেছেন। ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখার আগে পরিচিত কিছু গানের কভার করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। তখন থেকেই তমালিকা বুঝতে পারেন গান গাওয়ার চেয়ে, গান তৈরি করায় বেশি আগ্রহ। তাঁর প্রথম দিকের কম্পোজ় করা গানগুলির মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘রাইকমল’ গানটি।
কিন্তু সৃজিতের কাছে তিনি পৌঁছলেন কী ভাবে? তমালিকা বলেন, ‘সৃজিতদা নতুনদের সঙ্গে কাজ করেন, সেটা জানতাম। কিন্তু ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার পথ খুঁজছিলাম। ইন্ডাস্ট্রির কাউকে চিনতামও না যে, ওঁর ফোন নম্বরটা পাব। তাই শেষে মেল করি। মেল আইডিও ছিল না। সৃজিত মুখার্জ্জী টাইপ করেছিলাম। তাতে সৃজিতদার সাদা-কালো ছবি দেওয়া একটা প্রোফাইল ভেসে আসে। সেই ঠিকানাতেই আমার লেখা কিছু লিরিক্স আর গানের রেকর্ডিং পাঠাই। সৃজিতদার কাছে যে পৌঁছবে, সেটাও ভাবিনি। তার পরে একদিন সৃজিতদা নিজেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। পর পর দুটো কাজ করলাম। সৃজিতদা যে আমার কতগুলো গান এখনও ব্লক করে রেখেছেন, তার হিসাব নেই।’
কম্পোজ়ার হিসাবে তমালিকার সফর সবে শুরু। কম সময়েও এগিয়েছেন বেশ কিছুটা পথ। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তমালিকা জানিয়েছেন দেব-এর ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’-তেও কম্পোজ়ার হিসাবে কাজ করেছেন। সুযোগ পেলে ইন্ডাস্ট্রির অন্যদের সঙ্গেও কাজ করতে চান। স্বপ্ন দেখেন একদিন বলিউডেও পা রাখবেন। তবে তাড়াহুড়ো নেই। ধীরে-সুস্থে এগোতে চান। আপাতত তাই নতুন কাজের অপেক্ষায়।