• খুনের চক্রীকে মোটা টাকায় নিহতের লোকেশন ‘বিক্রি’, ধৃত বেলেঘাটার ট্রাফিক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
    বর্তমান | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টাকা দাও, টাওয়ার লোকেশন নাও! ঝাড়খণ্ডের চান্ডিলে ব্যবসায়ী খুনে ধৃত বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত এবং সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাস এই লেনদেনকে কার্যত ব্যবসায় পরিণত করেছিলেন। তদন্তকারীরা জেনেছেন, হোটেল ব্যবসায়ী নিখার সবলোকের ফোনের টাওয়ার লোকেশন খুনের ষড়যন্ত্রকারী অশোক সিং ওরফে রাঘবকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর জানিয়ে দিচ্ছিলেন ওই সার্জেন্ট। মোটা টাকার বিনিময়ে টানা দু’মাস ওই সার্জেন্ট নিখারের লোকেশন জানিয়ে আসছিলেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শার্প শ্যুটাররা নিখারের অবস্থান নিশ্চিত করে ও তাঁকে খুন করে। অশোক ও ধৃত সার্জেন্টের ই-ওয়ালেট ঘেঁটে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। প্রতিবার লোকেশন জানানোর জন্য নেওয়া হত টাকা। ঘটনায় নাম জড়িয়েছে কলকাতা পুলিশের এক কনস্টেবলেরও। তিনিও একইভাবে টাকার বিনিময়ে অশোককে হোটেল ব্যবসায়ীর লোকেশন জানিয়ে দিতেন বলে খবর। 

    ইতিমধ্যে জামশেদপুরের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে অয়ন এবং টুইঙ্কলকে। তাঁদের মোবাইলের কল ডিটেইলস বিশ্লেষণ করে খুনের পরিকল্পনাকারী অশোকের সঙ্গে একাধিকবার কথোপকথনের প্রমাণ মিলেছে। অশোক জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছে, হোটেল ব্যবসায়ী নিখারের গতিবিধি সে কিছুতেই জানতে পারছিল না। তাই বারবার টার্গেট করে ব্যর্থ হচ্ছিল। উত্তরপ্রদেশের দুই শার্প শ্যুটার তাঁর কাছাকাছি পৌঁছে জানতে পারে, নিখার এলাকা ছেড়েছেন। তাই নিয়মিত ব্যবসায়ীর লোকেশন জানাতে পারবে, এমন কোনো পুলিশকর্মীর খোঁজ করছিল অশোক। কলকাতায় যাতায়াতের সুবাদে তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কলের। তাঁকেই অশোক প্রথম জানায়, একজনের ফোনের  টাওয়ার লোকেশন দিয়ে ‘হেল্প’ করতে হবে। এর জন্য টাকাও দেবে সে। তখন অভিযুক্ত সিভিক ট্রাফিক সার্জেন্ট অয়নের বিষয়ে অশোককে জানায়। অভিযুক্ত সার্জেন্ট প্রতিবার লোকেশন দেওয়ার জন্য ৬ হাজার টাকা করে দাবি করে। এরপর সার্জেন্ট নিজে অশোকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। অশোক সিং ওই সার্জেন্টকে নিখারের সমস্ত মোবাইল নম্বর পাঠিয়ে দেয়। তার ভিত্তিতে প্রতিদিন ওই হোটেল ব্যবসায়ীর ফোনের লোকেশন অশোককে জানিয়ে দিতে হত। সেই মতো রেকি করত অশোকের দলবল। জুলাই থেকে নিয়মিত এই কারবার চলেছে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, দিনে অন্তত দু’বার লোকেশন পাঠাতেন সার্জেন্ট। প্রথম দিকে লোকেশন পিছু ৬ হাজার টাকা নিলেও পরে রেট বাড়িয়ে ১০ হাজার করেছিলেন অভিযুক্ত। সেই টাকার একটা ভাগ পেতেন অভিযুক্ত সিভিক ও এক কনস্টেবল। তাঁদের ই-ওয়ালেট ঘেঁটে তদন্তকারীরা জেনেছেন, অশোক অনলাইনে টাকা পাঠিয়েছে সার্জেন্টকে। মূল পরিকল্পনাকারী জেরায় টাকা পাঠানোর কথা স্বীকারও করে নেয়। সার্জেন্টের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ আরও জানতে পারে, নিখারকে খুনের দিন অর্থাৎ ২৪ আগস্ট দুপুর ২টো থেকে ৩টের মধ্যে চারবার অশোককে ব্যবসায়ীর লোকেশন পাঠিয়েছেন অয়ন গুপ্ত। সেই তথ্য শ্যুটারদের দিয়েছে অশোক। সেই মতো পৌঁছে গিয়ে হোটেল ব্যবসায়ীকে খুন করে শার্প শ্যুটারবা।
  • Link to this news (বর্তমান)