রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরির মধ্যেই রবিবার থেকে পুজোর প্রস্তুতি
বর্তমান | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগে হাতে ছুটির দিন খুব একটা বেশি নেই। ফলে টুকটাক কেনাকাটা শুরু করে দিল মানুষ। রবিবার সকালে শরতের মেঘ জানাল, পুজো আসছে। নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ দুর্গার আসার খবর দিল। কান পাতলে ঢাকের আওয়াজও এল ভেসে। আজ, সোমবার গণেশ পুজো। তাই ঢাক বাজছে। ইদানীং কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় গণেশ পুজো বেড়েছে। ফলে আলো দিয়ে সেজেছে অনেক পাড়া, আসছে গানের আওয়াজও। সবকিছুই মনে করাচ্ছে, পুজো আসছে। রবিবার আবহাওয়া একটু ভালো পেয়ে গড়িয়াহাট-নিউ মার্কেটে দুপুর থেকেই ভিড় জমাল মানুষ। জামাকাপড় কেনাকাটা মন্দ হল না। সল্টলেক থেকে শ্যামবাজার, গড়িয়া থেকে কলেজ স্ট্রিট, ভিড় কোথাওই কম হল না। কেউ কিনলেন জুতো। কেউ শুধু উইন্ডো শপিংয়েই জোর দিলেন। কেউ শাড়ি বাছাই করে অ্যাডভান্স করে গেলেন দোকানে। কেউ পাঞ্জাবির বরাত দিয়ে গেলেন। সবমিলিয়ে পুজোর শপিং শুরু করে দিল বাঙালি। পুজো এই চলে এল বলে। দেখতে দেখতে এসে যাবে।
তবে দুপুরের পর কিছুটা তাল কাটে। আচমকা দক্ষিণের আকাশে কালো মেঘ। বেশ কিছুক্ষণ ঝমঝমে বৃষ্টিও হল। তবে বৃষ্টি থামতেই আবার সেই নীল আকাশ। আবার ছবি আঁকা মেঘ। ফলে বৃষ্টি থামার পর গড়িয়াহাটের ফুটপাতে হাঁটা প্রায় মুশকিল হয়ে গেল। গড়িয়াহাটের এক জামাকাপড় বিক্রেতা বললেন, ‘পুজোর বাজার চলছে, তা ঠিক বলা যাচ্ছে না। বাজার এখনও জমেনি। তবে রবিবার সকাল থেকেই ভিড় দেখছি বেড়েছে। বলতে পারেন পুজোর বাজারের ঢাকে কাঠি পড়েছে।’ ততক্ষণে গড়িয়াহাটের গণেশ পুজো উপলক্ষ্যে রাস্তায় আলো জ্বলে উঠল। বোঝা গেল পুজো মরশুম শুরু হয়ে গিয়েছে। বাসন্তী দেবী কলেজের এক পড়ুয়া বললেন, ‘রাস্তার দু’পাশে বিজ্ঞাপন দিতে ইতিমধ্যেই বাঁশ বাঁধা শুরু হয়ে গিয়েছে। অলি-গলিতে প্যান্ডেলের কাজ অনেক এগিয়ে গিয়েছে। এগুলো দেখেই মনটা আনন্দে নেচে ওঠে।’ দেখা গেল ফুটপাতে কাগজ বিক্রেতাদের কাছে এসে পৌঁছেছে শারদীয়া পুজো বার্ষিকীও।
বিকালে গড়িয়াহাট মোড়ে রাস্তার দু’ধারে হাতে নতুন জামাকাপড় ভর্তি ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ। দোকানগুলিতে চলছে দেদার দরদাম। জামা দেখতে দেখতে এক ক্রেতা বললেন, ‘এখনও পর্যন্ত সেরকম নতুন স্টক তো পেলাম না। কিছু এসেছে বটে তবে দাম বেশি চাইছে। দেখতেই এসেছি। সামনের সপ্তাহ থেকে কেনাকাটা শুরু করব।’ সবমিলিয়ে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরির মধ্যে রবিবারের কলকাতা জানিয়ে দিয়েছে পুজোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে শহর। এবার বাড়বে কেনাকাটার বহর। মা আসছেন। সেজেগুজে বেরতে হবে ঠাকুর দেখতে।