• গেমিং অ্যাপ শেখাতে গেস্ট হাউসে ধর্ষণ! আনন্দপুরে অভিযোগ, সল্টলেকে গ্রেপ্তার প্রেমিক
    বর্তমান | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়। তারপর প্রেম। এরপর গেমে জেতার কৌশল শেখাতে আনন্দপুরের একটি গেস্ট হাউসে ডেকে পাঠানো। সেখানে ধর্ষণ। এখানেই শেষ নয়। সেই ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করে ফের ঘনিষ্ঠ হতে চাপ। প্রেমিকার এহেন লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার রাতে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ এলাকা থেকে গুণধর প্রেমিককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। নাম দীপক রায়। অভিযুক্তের বাড়ি নরেন্দ্রপুরে। বেসরকারি একটি ঋণদান সংস্থায় কর্মরত তিনি। 

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা তরুণী হাওড়ার বাসিন্দা। অনলাইন গেমিং অ্যাপে পরিচয় দীপকের সঙ্গে। জুটি বেঁধে খেলার সিদ্ধান্ত নেন দু’জনে। খেলায় কীভাবে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে অর্থ উপার্জন সম্ভব, তা নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত ফোনে কথা বলতেন তাঁরা। অভিজ্ঞতা বেশি হওয়ায়, সিঙ্গল গেম জেতার কৌশল নিয়ে তরুণীকে নিয়মিত পরামর্শ দিতেন দীপক। ধীরে ধীরে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। এমনকি তরুণীর বাড়িতেও গিয়েছেন যুবক। তাঁর সঙ্গে তরুণী বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যেতেন। সেখানে এই গেমে অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরাও আসতেন। 

    পুলিশ সূত্রে খবর, আগস্ট মাসের শেষের দিকে দীপক প্রেমিকাকে জানায় কৌশলগত ভুলের জেরে তাঁরা ম্যাচ হেরে যাচ্ছেন। এমনকি সিঙ্গল গেমেও জিততে পারছেন না প্রেমিকা। তাই খেলার কৌশল ঠিক করতে এবং নতুন কিছু পদ্ধতি শেখাবেন বলে প্রেমিকাকে তিনি ডেকে পাঠান আনন্দপুর এলাকায় একটি গেস্ট হাউসে। আগে থেকেই সেখানে রুম বুক করে রেখেছিলেন দীপক। তরুণীর দাবি, রুমে যাওয়ার পরেই অশালীন আচরণ শুরু করেন দীপক। তাতে বাধা দিলে মারধর করা হয়। তারপর ধর্ষণ। তরুণী পালাতে গেলেও নিস্তার মেলেনি। এই ঘটনা যেন প্রকাশ্যে না আনা হয়, দেওয়া হয় সেই হুমকি। পাশাপাশি ফের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চাপ। না হলে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। কোনোক্রমে ওই তরুণী পালিয়ে বাঁচেন। এরপরও পিছু ছাড়েননি অভিযুক্ত। বারবার ফোন করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া শুরু হয়। অবশেষে ১ সেপ্টেম্বর আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। তার ভিত্তিতে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, ভয় দেখানো সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে পুলিশ। তরুণীর শারীরিক পরীক্ষাও করানো হয়। কিন্তু তদন্তে নেমে প্রথমে হোঁচট খায় পুলিশ। কারণ, দীপকের মোবাইল ফোন বন্ধ। জোগাড় করা হয় তাঁর নতুন মোবাইল নম্বর। ট্র্যাক করে জানা যায় অভিযুক্ত সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে রয়েছেন। সেইমতো মহিলা থানার অফিসাররা সেখানে পৌঁছে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেন। এরপর তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু এই তরুণীই নন, আরও অনেককেই গেমের কৌশল শেখানোর নাম করে ডেকে ধর্ষণ করেছেন দীপক! কিন্তু অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় পার পেয়ে গিয়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)