নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাগেশ্বর ধামের আচার্য ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানোর ঘটনায় রবিবার ভবানীপুর থানায় হাজিরা দিলেন কংগ্রেস নেতা প্রদীপ প্রসাদ ও আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়। এদিন বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ চলে তাঁদের। প্রদীপ ও আশুতোষ বলেন, ‘আমরা পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছি। তবে আমাদের প্রশ্ন, যে বা যাঁরা আট কোটি বাঙালি এবং বাংলার দুর্গাপুজোকে অসম্মান করল, তাঁদের বিরুদ্ধে কেন কোনো পদক্ষেপ করা হবে না? বাংলা ও বাঙালির স্বার্থে আমরা আগেও প্রতিবাদ করেছি, আবারও রাস্তায় নামতে পিছপা হব না।’ আজ, সোমবার জামিন সংক্রান্ত বিষয়ে আলিপুর আদালতে যাবেন প্রদীপ ও আশুতোষ। রবিবার পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে থানা থেকে বেরিয়ে আসার পর প্রদীপ ও আশুতোষের বিরুদ্ধে ‘মুর্দাবাদ’ স্লোগান তুলে সরব হন বিজেপি কর্মীরা। সেইস ময় থানার বাইরে হাজির ছিলেন কংগ্রেস কর্মীরাও। তাঁরাও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন। দু’পক্ষের স্লোগান যুদ্ধে তপ্ত হয়ে ওঠে ভবানীপুর থানা চত্বর। বচসা থেকে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। দু’পক্ষকেই সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিজেপি কর্মীদের বক্তব্য, পরিবর্তনের পর রাজ্যে সুষ্ঠুভাবে সবকিছু চলছে। দক্ষ হাতে রয়েছে প্রশাসন। সেখানে কংগ্রেস পরিস্থিতিকে অহেতুক উত্তপ্ত করে তোলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পালটা কংগ্রেস কর্মীরা বলেন, রাজ্যে বিজেপি সরকারের আমলে প্রতিবাদ করলেই জেলে যেতে হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। সুষ্ঠু গণতন্ত্র নেই। এদিকে, ‘সংগঠন সৃজন’ কর্মসূচির মাধ্যমে দলে একাধিক রদবদল করেছে কংগ্রেস। পাঁচ বছর ধরে যাঁরা জেলা সভাপতি পদে রয়েছেন, তাঁদের ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতায় জেলা কংগ্রেসের সভাপতি পদে প্রদীপ প্রসাদকে সরিয়ে আনা হয়েছে মিতা চক্রবর্তীকে। সামাজিক মাধ্যমে প্রদীপ লিখেছেন, ‘বিকল্প কিছু ভাবতেই হবে।’ আর মিতার বক্তব্য, ‘আমি কর্পোরেট জগতের পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে রাজনীতিতে এসেছি। টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে বুথস্তর থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে চাই।’