অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি
মাঝরাতে দেওয়ালে লোহার রড ঢুকিয়ে এসির ফ্রেম বসানো হতো, চোরাগোপ্তা চলত মেরামতি, নির্মাণের কাজ— বার বার অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। দীর্ঘদিনের এই বেনিয়মের ফলাফল দেখা গিয়েছে কিছুদিন আগে।
দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় চারতলা বিল্ডিং 'হস্টেল ডেজ়' ধসে প্রাণ গিয়েছে সাত জনের। এই পেয়িং গেস্ট (পিজি) অ্যাকোমডেশনের দুই মালিক সুধাংশু লবনীশ, শুভম ত্যাগী এবং বিল্ডিংয়ের মালিক হরিরাম, তাঁর স্ত্রী উর্মিলা, তাঁদের ছেলে মহেশ এবং স্থানীয় ঠিকাদার সরোজের বিরুদ্ধে কেস ডায়েরি তৈরি করতে গিয়ে বিল্ডিংয়ের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ১৯ বছরের পড়ুয়া নীতীশ চিব ও তাঁর দুই সতীর্থের উপরোক্ত বয়ানগুলোকেই গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ৷
'হোস্টেল ডেজ়' পিজিতেই থাকতেন নীতীশ ও তাঁর বন্ধুরা৷ দিনের পর দিন এই বিল্ডিংয়ে যে ভাবে মেরামতির কাজ করা হতো, মাঝরাতে এসির ফ্রেম বসানো হতো— তা নিয়ে বহুদিন থেকেই পিজির মালিকদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন নীতীশ৷ ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশকে এমনটাই বয়ান দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এই অভিযোগে কর্ণপাত করা হয়নি বলে অভিযোগ৷ পিজির-২০২ নম্বর ঘরে থাকা, জম্মুর আদি বাসিন্দা নীতীশ দিল্লি পুলিশকে জানিয়েছেন, বাড়িটি ভেঙে পড়ার দু'সপ্তাহ আগে থেকেই বিল্ডিংয়ের বেসমেন্টে মেরামতির কাজ শুরু হয়েছিল৷ এই মেরামতির কাজের আওয়াজে আবাসিকদের ঘুম মাথায় উঠেছিল৷ আবাসিকদের আপত্তি উপেক্ষা করেই লাগাতার চলেছে কাজ।
পাশাপাশি দিল্লি পুলিশ আরও এক সাক্ষীর বয়ান নথিবদ্ধ করেছে, তিনি হলেন স্থানীয় এক কলের মিস্ত্রি৷ 'হোস্টেল ডেজ়' পিজির জলের লাইন দেখভালের দায়িত্ব ছিল এই কল–মিস্ত্রির উপরেই৷ বাড়ি ভেঙে পড়ার দিনই এই মিস্ত্রি নিজে পিজি কর্তৃপক্ষকে সাবধান করে বলেছিলেন, দেওয়াল ফাটিয়ে বেসমেন্টে কলের লাইন মেরামত করতে গেলে গোটা বাড়িই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, ধসে পড়তে পারে বাড়ির দেওয়াল! তাঁর এই সাবধানবাণীতেও কান দেননি পিজির মালিক৷ তাঁকে জোর করে কাজ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেন দুই অভিযুক্ত৷
দিল্লি পুলিশ সূত্রের দাবি, ভেঙে পড়া বাড়ির প্রথম ও দ্বিতীয় তল নির্মাণের জন্যই শুধু অনুমতি দেওয়া হয়েছিল হরিরামকে৷ কিন্তু হরিরাম আরও তিনটি তলা তুলেছিল সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে৷ এর পাশাপাশি বিল্ডিংয়ের বেসমেন্টেও ছোট ছোট ঘর তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন 'হোস্টেল ডেজ়'–এর দুই মালিক সুধাংশু লবনীশ এবং শুভম ত্যাগী৷ বিল্ডিংয়ের নোংরা জল ওয়েস্ট পাইপের মাধ্যমে ঠিক ভাবে বাইরে বেরোতে পারত না৷ মাসের পর মাস ধরে এই জল বিল্ডিংয়ের দেওয়াল দিয়ে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ে গোটা বাড়িটিকেই ক্রমে দুর্বল করে তুলেছিল, দাবি দিল্লি পুলিশ সূত্রের৷