• BRICS সম্মেলনে মিলেটের প্রচার কেন গুরুত্বপূর্ণ? শুধুই পুষ্টিগুণ, নাকি পিছনে রয়েছে বড় ভাবনা?
    এই সময় | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে শেষ হয়েছে BRICS 2026-এর সম্মেলন। বিশ্বের তাবড় নেতা, প্রতিনিধিদের আথিতেয়তায় লুটিয়েন্স দিল্লির বুকে দ্য ললিত, লীলা প্যালেসের মতো হোটেলগুলিতে করা হয়েছিল রাজকীয় সব আয়োজন। এই তালিকায় ছিল মিলেটের খিচুড়ি, কেক ও রকমারি ডেজ়ার্টও। তাই দেশ জুড়ে কৌতুহলের বিষয় উঠেছে কেন মিলেটকেই এত প্রোমোট করা হলো?

    এই বিষয়ে নয়াদিল্লির দ্য ললিত হোটেলের এগজ়িকিউটিভ শো-শেফ অমিত বিশ্বাস জানিয়েছেন, ব্রিকসে আসা অতিথিদের জন্য তৈরি মেনুতে মিলেটের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মিলেটের পুষ্টিগুণের জন্য ‘নিউট্রি-সিরিয়াল’ বা ‘শ্রী অন্ন’ বলেছেন। তাই বিশ্বের কাছে মিলেটের প্রচারকে আরও জোরদার করতে এই উদ্যোগ।

    তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মিলেট বা বাজরাকে প্রোমোট করে ভারত যে শুধু একটি শস্যের প্রচার করছে না তা নয়, বরং সাস্টেনেবল এগ্রিকালচাল, ফুড সিকিউরিটিকেও প্রচার করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    BRICS-এর গালা ডিনারের মেনু থেকে শুরু করে BRICS Agricultural Working Group-এর আলোচনাতেও এই মিলেটকে তুলে ধরা হয়েছে। যার পিছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি কৃষি-অর্থনৈতিক কারণ:

    কৃষকদের আয় বৃদ্ধি: মিলেট কম উর্বর ও শুষ্ক জমিতেও ভালো ফলন দেয়। তাই একে অনেক সময় ‘Poor Corp’ বলা হয়। ভারতে প্রায় ২.৫ কোটি কৃষক মিলেট উৎপন্ন করেন। ব্রিকসে এর জনপ্রিয়তা বাড়লে বিশ্ব জুড়ে চাহিদা বাড়তে পারে। ফলে বাজারদর ও কৃষকের আয়ও বাড়তে পারে।

    জলবায়ু ঝুঁকির মোকাবিলা: খরা, তাপপ্রবাহ ও অনিয়মিত বৃষ্টিতে ধান, গম নষ্ট হতে পারে। কিন্তু খরা-সহনশীল বা Drought-resistant crops মিলেটের কম ক্ষতি হয়। ফলে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকিও কমতে পারে।

    সাস্টেনেবল ক্রপ: মিলেট চাষে ধান বা গমের তুলনায় অনেক কম জল প্রয়োজন হয়। কম সার ও কীটনাশক লাগে। তাই কৃষকদের জন্য এটি বিকল্প শস্য হয়ে উঠতে পারে। এর চাষ বাড়লে কৃষিতে ধান-গমের উপর নির্ভরতা কমবে। এ ছাড়া জল ও সারে সরকার যে ভর্তুকি দেয়, তার বোঝাও খানিকটা কমানো সম্ভব।

    আয় বৃদ্ধি: মিলেটের চাহিদা বাড়লে ছোট কৃষকরাও উপকৃত হতে পারেন। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মিলেটের ব্যবহার বাড়লে কৃষকের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

    কৃষি-প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ: মিলেট থেকে আটা, পাস্তা, বিস্কুট, নুডলস ও স্ন্যাক্স তৈরি বাড়ছে। এতে ‘Raw Millets’ বিক্রির বদলে তার থেকে তৈরি জিনিসগুলির রপ্তানি বাড়তে পারে।

    BRICS বাণিজ্য: BRICS Agriculture Portal-এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলির বাজারে মিলেটকে আরও বেশি করে প্রোমোট করতে উদ্যোগী ভারত। যাতে এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারেও মিলেটের একটা মার্কেট তৈরি করা যায়।

    এই বিষয়ে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্সস্টিটিউটের অধ্যাপক অভিরূপ সরকার বলেন, ‘মিলেট খুবই স্বাস্থ্যকর। বিভিন্ন মেডিক্যাল রিসার্চেও এখন তা প্রমাণিত। বর্তমানে মিলেট খাওয়ার প্রবণতাও বেশ বেড়েছে। আর ভারত মিলেট উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে। তাই মিলেটকে ভারত বিশ্বের বাজারের কাছে আরও বেশি পরিমাণে এক্সপোর্ট করার কথাও ভাবছে। একটি নতুন গ্লোবাল মার্কেট তৈরি হচ্ছে মিলেটের। যাকে দখল করতে চাইছে ভারত’।

  • Link to this news (এই সময়)