• মুদির দোকান ভেঙে মুড়ির বস্তা টেনে খেলো বুনো হাতি
    এই সময় | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, সাঁকরাইল: মুদির দোকান বন্ধ করে সবে ঘুমিয়েছেন দোকানদার ও তাঁর পরিবার। হঠাৎ দেওয়াল ভাঙার বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে তাঁদের। জানলা দিয়ে উকি দিয়ে দেখেন দোকানের দেওয়াল ভেঙে শুঁড় দিয়ে মুড়ির বস্তা টেনে বের করছে বুনো হাতি। মুড়ি, বেসন, ময়দা-সহ মুদির দোকানের যাবতীয় জিনিসপত্র একে একে বের করে খেয়ে সাবাড় করে হাতিটি। প্রায় তিরিশ মিনিট ধরে চলে এই তাণ্ডব। সব দেখেও ঘরেই ছিলেন তাঁরা। ঘর থেকে বেরোনোর সাহস পাননি ওই পরিবারের লোকজন। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে খঙ্কাপুর বন বিভাগের কলাইকুণ্ডা রেঞ্জের সাঁকরাইল বিটের জোড়াশাল গ্রামে।

    পেঁচাবিন্দার জঙ্গল থেকে পূর্ণাপানি গ্রাম হয়ে জোড়াশাল গ্রামে ঢুকে পড়ে একটি বুনো হাতি। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, খাবারের সন্ধানে জঙ্গল থেকে বুনো হাতিটি বেরিয়ে পূর্ণাপানি গ্রামে একটি বাড়ি ভেঙে জোড়াশাল গ্রামে ঢোকে। খাবারের সন্ধানে গ্রামের তিনটি বাড়ির দরজা, জানলা শুড় দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। একটি মাটির বাড়ির দেওয়ালের একাংশ ভেঙে ফেলে হাতিটি। গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ে পরিতোষ দাসের মুদির দোকান নজরে পড়ে তার। ধাক্কা দিয়ে দোকানের সামনের দেওয়াল ভেঙে ফেলে সে। পরিতোষ বলেন, 'এরপরেই দোকান থেকে মালপত্রের বস্তা বের করে খাওয়া শুরু হয়। হাতি তাড়াতে গ্রামের মানুষ পটকা ফাটালে তাঁদের দিকে তেড়ে যায় হাতিটি। কিছুক্ষণ তাণ্ডব চালানোর পরে হাতিটি দোকানের সামনে থেকে সরে গিয়ে পেঁচাবন্দির জঙ্গলে চলে যায়।' দোকানির দাবি, হাতির হানায় দোকান ভেঙে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    রবিবার সকালে বন দপ্তরের কর্মীরা জোড়াশাল গ্রামে পৌঁছন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ক্ষতিপূরণের ফর্ম তুলে দেন। খঙ্কাপুর বন বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, 'দলেছুট একটি বুনো হাতি গ্রামে ঢুকে একটি দোকান ও কিছু ঘরের ক্ষতি করেছে। তাঁদের ক্ষতিপূরণের ফর্ম দেওয়া হয়েছে। হাতির গতিবিধির উপরে নজর রাখা হচ্ছে।' জানা গিয়েছে, হাতির দল নিয়ন্ত্রণের জন্য দৈনিক মজুরিতে হুলা পার্টিকে কাজে লাগানো হয়। অভিযোগ, কয়েক মাস বন দপ্তর হুলা পার্টির সদস্যদের টাকা না দেওয়ার কারণে তাঁরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে, হাতি ড্রাইভ নিয়ে বিপাকে পড়েছে বন দপ্তর।

    অন্য দিকে, নয়াগ্রামে একটি বুনো হাতি রামেশ্বর হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। কয়েকটি গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায়। হাতি দেখার জন্য পিছু নেয় বহু মানুষ। পরে হাতিটি তপোবনের জঙ্গলে চলে যায়। জানা গিয়েছে, হাতির হানায় গ্রামে কোনও ক্ষতি হয়নি।

  • Link to this news (এই সময়)