এই সময়, তমলুক: সারি সারি দোকান ঘর। অথচ দিনের পর দিন বন্ধ। তার উপরে কোথাও আলো নেই, শৌচাগার ব্যবহারের অযোগ্য। সন্ধ্যা নামলেই বসে মদের আড্ডা। অভিযোগ উঠেছে অসামাজিক কাজকর্মের। জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, কয়েক বছর আগে তমলুক শহরে হাসপাতাল মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ৮৪টি স্টল তৈরি করা হয়েছিল। বেকার যুবক-যুবতীদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া এবং স্টল থেকে আয়ের মাধ্যমে জেলা পরিষদের তহবিল বাড়ানোই ছিল মালিকদের নোটিস পাঠিয়ে বৈঠকে লক্ষ্য। রাজ্যে পালাবদলের পরে স্টল ডেকে বন্ধ থাকা দোকানগুলি খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ, স্টল তৈরির পরে সেগুলি বণ্টনের ক্ষেত্রে আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছিল। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সভাধিপতি বামদেব গুছাইতের দাবি, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের পরিবর্তে প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন ব্যবসা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হাতে একাধিক স্টল চলে গিয়েছে। এমনকি একজনের নামে একাধিক স্টল থাকার অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি বিষয়টি জানার পরে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে স্টল চত্বর পরিদর্শন করেন তিনি। বামদেবের কথায়, 'যা পরিস্থিতি দেখেছি তাতে অভিজ্ঞতা 'অত্যন্ত তিক্ত'। কোনও স্টলে ব্যবসা হচ্ছে, কোনওটি বন্ধ, কোনওটা অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সব খতিয়ে দেখা হয়েছে। স্টলগুলির বর্তমান পরিস্থিতির তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।'
শুধু স্টল বন্ধ থাকাই নয়, যে সব স্টলে দোকানদাররা ব্যবসা করছেন তাঁরাও দীর্ঘদিন ধরে পরিকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছেন। তাঁদের অভিযোগ, স্টল নেওয়ার সময়ে ধাপে ধাপে প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। অথচ ন্যূনতম পরিষেবা মেলে না। জল, আলো ও শৌচাগারের হাল খারাপ। হাই ড্রেনের উপরে চারটি ফুটব্রিজ তৈরির কথা থাকলেও তৈরি হয়েছে দু'টি। রাতে ফাঁকা স্টল চত্বর মদ্যপান ও অসামাজিক কাজকর্মের আখড়া হয়ে উঠেছে। স্টলের ভাড়া নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে ব্যবসায়ীদের। তাঁদের দাবি, কোনও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই মাসিক ভাড়া ৫০০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হয়েছে।
নীতিশ চক্রবর্তী নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, 'আমরা জেলা পরিষদের কাছে বেশি কিছু নয়, শুধু জল, আলো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নারী-পুরুষের আলাদা শৌচাগারের মতো ন্যূনতম পরিষেবা চাই। সেই সঙ্গে নজরদারি থাকলে অসামাজিক কাজকর্মও বন্ধ হবে।' স্টল চত্বরে ব্যবসা করেন দুলাল তুঙ্গ। তাঁর কথায়, 'সব স্টল খুললে আমাদেরও সুবিধা হবে। ক্রেতার সংখ্যাও বাড়বে।' স্থানীয় বাসিন্দা পরেশচন্দ্র ভৌমিক জানান, ওখানে কয়েকটা দোকান ও রেস্তোরাঁ চালু হয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগই বন্ধ। সেগুলিতে ব্যবসা হচ্ছে না। যাঁরা প্রকৃত ব্যবসায়ী, তাঁরা স্টল পেলে দোকান খুলতেন।
জেলা পরিষদ সূত্রের খবর, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর জেলাপরিষদ ভবনে স্টল মালিকদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। ইতিমধ্যে বর্তমান স্টল মালিকদের নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেন স্টল বন্ধ, কারা প্রকৃত মালিক, কোথায় ব্যবসা হচ্ছে এবং কোথায় স্টল অন্য কাজে ব্যবহার হচ্ছে-বৈঠকে সবকিছুই খতিয়ে দেখা হবে। জেলা সভাধিপতি বলেন, 'প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যাতে ব্যবসা করার সুযোগ পান, সেই ব্যবস্থা করব।'