এই সময়, খড়্গপুর ও ঝাাড়গ্রাম: বিধানসভা নির্বাচনের পরে জেলায় দলের সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধিতে নজর দিয়েছে কংগ্রেস। সেই পথে পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে দলের সভাপতি পদে বদল আনল কংগ্রেস। পশ্চিম মেদিনীপুর দলের জেলা সভাপতি হলেন চিরঞ্জীব ভৌমিক।
জেলা সভাপতি হিসেবে তাঁর ঘোষণার পরে জেলায় সংগঠনের শক্তি বাড়বে, এমনটাই আশা কর্মীদের মধ্যে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক ভাবে নড়বড়ে কংগ্রেসকে কোন মন্ত্রে চিরঞ্জীব চাঙ্গা করবেন তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে দলে। চিরঞ্জীবও স্বীকার করছেন, ‘কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূলের জন্ম হওয়ার পর থেকেই আমাদের সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলায় তৃণমূল কোণঠাসা। আমাদের আশা, কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যাওয়া কর্মীরা ফের ঘরে ফিরবেন। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিজেপি বিরোধী আন্দোলন শক্তিশালী হবে।’
পেশায় আইনজীবী চিরঞ্জীব বর্তমানে মেদিনীপুর শহরে থাকলেও তাঁর বাড়ি সবংয়ে। বাবা জয়ন্ত ভৌমিক কংগ্রেস করতেন। দাদু হরিপদ ভৌমিক ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। পরবর্তী কালে কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০০৩–এ চিরঞ্জীব সবং ব্লক যুব কংগ্রেসের সভাপতি হন। ২০০৬–এ জেলা যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১১ তে জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক।
পরবর্তী কালে জেলা কংগ্রেসের সহ-কার্যকরী সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ফলে রাজনীতির ময়দানে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এ বার কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নির্বাচনের পদ্ধতিও ছিল একেবারে আলাদা। সভাপতি হওয়ার জন্য আবেদন জমা দিতে হয়েছিল এআইসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যের কাছে। সবদিক খতিয়ে দেখে নাম ঘোষণা করা হয়। ফলে পক্ষপাতের অভিযোগও তুলতে পারেননি কেউ। চিরঞ্জীব বলেন, ‘এ বার দলের নির্দেশ মেনে জেলা কমিটি থেকে ব্লক কমিটি গঠন করা হবে।’ তাঁর দাবি, পুরসভা নির্বাচন ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে কংগ্রেস এ বার নিশ্চিত কয়েকটি আসন পাবে।
ঝাড়গ্রাম জেলা কংগ্রেসের নতুন সভাপতি হলেন প্রসেনজিৎ দে। ২০২০ থেকে জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। শনিবার দলের এক নির্দেশিকায় জেলা কংগ্রেস সভাপতি গোলাপি সরেনকে সরিয়ে প্রসেনজিৎকে সভাপতি করা হয়। তিনি এ বার ঝাড়গ্রাম বিধানসভায় কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন। প্রসেনজিৎ বলেন, ‘দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সবাই মিলে সেই দায়িত্ব পালন করব। বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠনকে এমন ভাবে মজবুত করা হবে, যে কোনও নির্বাচনেই আমরা একক ভাবে লড়াই করে জয়ী হতে পারি। মানুষ যে ধরনের স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত সরকার চাইছে, কংগ্রেস ছাড়া অন্য কেউ হতে তা পারবে না।’