পুলিশি হেফাজতে থাকা এক বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানায়। সূত্রের খবর, থানার বাথরুম থেকে ওই যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। জানা গিয়েছে, দিন চারেক আগে চুরির মামলায় রাহুল রুইদাস নামে ওই যুবককে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সূত্রের খবর, দিন চারেক আগে চুরির অভিযোগে রাহুলকে গ্রেপ্তার করে চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ। তাঁকে ঘাটাল মহকুমা আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক চার দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে থানার বাথরুমে যান ওই যুবক। সেখানে পরনের প্যান্ট খুলে গলায় জড়িয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন তিনি।
বাথরুম থেকে শব্দ পেয়ে পুলিশ দ্রুত দরজা খুলে রাহুলকে উদ্ধার করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। চিকিৎসা চলাকালীনই মৃত্যু হয় তাঁর।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই যুবক নেশা করতেন। চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। সে কথা স্বীকার করে নিয়েছে ওই যুবকের পরিবারও। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশই থানার মধ্যে যুবককে পিটিয়ে খুন করেছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতালের CMOH সীতানাথ হাঁসদা জানান, রবিবার রাত ন'টা নাগাদ রাহুলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময়ে তাঁর গলায় একটি চিহ্ন দেখা গেলেও, তাঁর দেহে আর কোথাও কোনও ক্ষতচিহ্ন মেলেনি। CMOH জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে যে, শ্বাসরোধ হওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির। তবে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পরেই জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।