• এয়ার কলিন: ২৮০ বিদেশি নিয়ে কলকাতায় জরুরি অবতরণ এয়ার কলিনের
    এই সময় | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়: অস্ট্রেলিয়ার পূব দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের উপরে কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে তৈরি ছোট দেশ নিউ ক্যালিডোনিয়া। ফ্রেঞ্চ কলোনি হিসেবেই পরিচিত। সেই দেশেরই সরকারি এয়ারলাইন্সের নাম এয়ার ক্যালিডোনি। তার ইন্টারন্যাশনাল কেরিয়ার এয়ার কলিন নামে পরিচিত।

    কস্মিনকালে সেই এয়ারলাইন্সের কোনও ফ্লাইটের চাকা কলকাতার রানওয়ে ছুঁয়েছে বলে মনে করতে পারেন না প্রবীণ এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু, কলকাতার আকাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ে সেই এয়ারলাইন্সেরই এয়ারবাস ৩৩০ বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিল রবিবার দুপুরে। কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রের খবর, এয়ার কলিনের বেশ বড়সড় সেই বিমানে ছিলেন ২৬৮ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু। সকলেই নিরাপদে রয়েছেন। সকলেই বিদেশি। তাঁদের কারও ভারতে ঢোকার ভিসা নেই। এই পরিস্থিতিতে শহরে ঢোকার জন্য তাঁদের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা করা হয়।

    বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, এয়ার কলিনের এসবি–৫০১ ফ্লাইটটি ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ প্যারিস থেকে রওনা দিয়েছিল। গন্তব্য ছিল নিউ ক্যালিডোনিয়ার রাজধানী নুমেয়া। মাঝপথে ব্যাঙ্ককে নেমে রি–ফুয়েলিংয়ের কথা ছিল। কলকাতার আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময়ে আচমকাই বিমানের ইঞ্জিনে সমস্যা ধরা পড়ে। বেগতিক দেখে কলকাতা বিমানবন্দরের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)–এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন পাইলট। যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানিয়ে জরুরি অবতরণ করতে চান তিনি। এরপরে বিমানটি কয়েক বার কলকাতার আকাশে চক্কর কাটে। জানা গিয়েছে, ইমারজেন্সি ল্যান্ড করার আগে আকাশে চক্কর কেটে নিয়মমাফিক জ্বালানি ফেলে বিমানটি। ওজন কমিয়ে রবিবার দুপুর নাগাদ নিরাপদে বিমানটি কলকাতায় অবতরণ করে। সেটিকে ১১৫ নম্বর বে-তে রাখা হয়।

    অবতরণের পরে বেশ কিছুক্ষণ বিমানের ভিতরেই ছিলেন যাত্রীরা। কলকাতায় এয়ারবাস ৩৩০ বিমানের ইঞ্জিনিয়ার নেই। অন্য এয়ালাইন্সের এয়ারবাস বিমানের ইঞ্জিনিয়াররা কিছুক্ষণ পরীক্ষা চালালেও বিমানটি সারানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত বিকেল চারটে নাগাদ যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। সোমবার ভোর চারটে পর্যন্ত চলে তাঁদের ‘টেম্পোরারি ইমিগ্রেশন পারমিট’ দেওয়ার কাজ। তারপরে শহরের একটি পাঁচতারা হোটেলে তাঁদের রাখার ব্যবস্থা করা হয়। এই ধরনের ক্ষেত্রে ওই এয়ারলাইন্সের নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারদের উড়িয়ে আনাই দস্তুর। কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রে, সেরকমই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যেহেতু নুমেয়া থেকে কলকাতায় কোনও ফ্লাইট নেই, তাই ব্যাঙ্কক বা সিঙ্গাপুর ঘুরে সেই ইঞ্জিনিয়ার টিম আসবে। আটকে পড়া যাত্রীদের নিয়ে যেতে খালি বিমানও পাঠানো হতে পারে। ততদিন কলকাতার হোটেলে আটকে থাকাই ২৮০ জন যাত্রী ও ক্রু–র ভবিতব্য।

  • Link to this news (এই সময়)