• থমথমে গোটা মেস, পুরুলিয়ায় খুনের পরে আতঙ্কের চাদরে মুড়েছে পাড়া
    এই সময় | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • শান্ত-নির্বিবাদী পাড়ায় এক লহমায় গ্রাস করেছে আতঙ্ক। পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে দুলমির রামকৃষ্ণ পল্লির মেসে শনিবারের ভয়াবহ খুনের ঘটনার রেশ এখনও রয়েছে এলাকায়। মেসের দোতলার যে ঘরে খুন হয়েছে, তা আগেই সিল করে দিয়েছিল পুলিশ। সোমবার দেখা যায়, মেসের দোতলার ওই অংশটি পুলিশ সিল করে রেখেছে। তবে নীচের তলায় কয়েক জন আবাসিক রয়েছেন। পুলিশ মেসে পাহারা বসিয়েছে। বাইরের কেউ মেসের ভিতরে ঢুকতে পারছেন না। যে কয়েকজন আবাসিক রয়েছেন, তাঁরা দরজা বন্ধ করে রেখেছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, মেসের মালিক ওই এলাকায় থাকেন না। কখনও কখনও এলাকায় আসেন তিনি। মেসের ঘরে খুনের পর থেকেই চূড়ান্ত আতঙ্ক ছড়িয়েছে ওই পাড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জিত সিং বলেন, ‘পাড়ায় সবাই আতঙ্কে রয়েছেন। মেস করা নিয়ে পাড়ার মানুষ আপত্তি জানালেও কেউ কানে তোলেনি। বরং কয়েকটি মেসের মালিকের সঙ্গে ঝামেলা পর্যন্ত হয়েছে। মেস হলে কে আসছে বা কি হচ্ছে কিছুই বোঝা যায় না।’

    যে এলাকায় মেস রয়েছে, সেটি টামনা থানার অন্তর্গত। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার দুলমি নডিহা এলাকায় গত কয়েক বছরে বিপুল জনবসতি বেড়েছে। এই এলাকাটি এখন পুরুলিয়া শহরের বৃহত্তর অংশ হিসেবে ধরা হয়। প্রচুর মেস রয়েছে ওই এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, সেগুলির উপর নজরদারি রাখা হচ্ছে। ওই খুনের ঘটনার তদন্ত করছে বলরামপুর থানার পুলিশ। কারণ পুরুলিয়া থেকে বলরামপুর ঢোকার সময়ে নাকা তল্লাশিতে ওই থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে অভিযুক্ত, উদ্ধার হয় দেহ। আপাতত ধৃতকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে, সিসিটিভি ফুটেজ জোগাড়ের চেষ্টা করছে পুলিশ।

    শনিবার সন্ধ্যায় মেসটিতে এক তরুণীকে খুন করে সেখানকারই বাসিন্দা বছর একুশের অমিত কুমার মাহাতো। মৃত ১৯ বছরের এক তরুণীকে। দু’জনের পরিচয় ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, যখন এই ঘটনাটি ঘটে তখন মেস ফাঁকা ছিল। ওই তরুণী মেসে ঢুকে অমিতের ঘরে যান। সেখানে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়, তারপরেই খুনের ঘটনা ঘটে। এরপর নিজের মোটরবাইকে চাপিয়ে দেহটি পাচার করার সময় অমিত ধরা পড়ে যায় বলরামপুর থানার পুলিশের হাতে।

  • Link to this news (এই সময়)