তৃণমূলের ফান্ড ও প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের টানাপড়েনের মাঝেই NCPI নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তিনি তৃণমূলের টিকিটে কোচবিহার থেকে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন, তারপরে যোগ দিয়েছে NCPI-তে। সোমবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে বড়সড় দাবি করলেন তিনি। কেন NCPI-তে যোগ দিয়েছিলেন ২০ জন সাংসদ? সেটাও এ দিন স্পষ্ট করেন তিনি।
কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া বলেন, ‘আমরা বিজেপি তে যোগ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের ৩ জন সাংসদ যেতে চায়নি। তাই বিজেপির নির্দেশেই আমরা NCPI তে যোগ দিয়েছি।’ তবে শীঘ্র তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন, সেটাও স্পষ্ট করেছেন তিনি। কোচবিহারে নিজের বাড়িতে বসে জগদীশের দাবি, শীঘ্রই আমরা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছি এবং সেটা পুজোর আগেই। NCPI সংক্রান্ত আইনি জটিলতা মিটে গেলেই তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে নবান্নে গিয়েছিলেন জগদীশচন্দ্র। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারের সঙ্গে দেখা করে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের তালিকা তুলে দিয়েছিলেন তিনি। তার পরে রবিবার সিতাইয়ে ফিরতে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পরে রাতে কোচবিহারে ফিরে আসেন সাংসদ।
জগদীশ চন্দ্রর দাবি, জেলার ব্যাপক উন্নয়ন করতে গেলে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগী হতে হবে। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁরা একত্রিত হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ভূপেন্দ্র যাদব, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন বিজেপিতে যোগ দেবেন। কেন দিলেন না? জগদীশচন্দ্র বলেন, ‘আমাদের সমস্যা হচ্ছিল কারণ আমাদের মধ্যে ৩ জন সংখ্যালঘু সদস্য ছিল। তাঁদের ক্ষেত্রে এলাকা সংক্রান্ত কিছু সমস্যা ছিল। তার পরে বিজেপির পরামর্শেই NCPI-তে যোগ দিয়েছি।’ সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জন বিজেপিতে যোগ দেবেন। তিন জন NCPI-তে থেকেই NDA-কে সমর্থন করবেন। এই বক্তব্য নিয়ে তৃণমূল থেকে NCPI-তে যোগ দেওয়া সাংসদ আবু তাহেরের প্রতিক্রিয়া, ‘উনি আমার মুখপাত্র নন।’ এই বক্তব্যের সঙ্গে তাঁরা সহমত নন বলে জানিয়েছেন আবু তাহের।
বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার জানিয়েছেন, জগদীশচন্দ্র যা যা বলেছেন, সবটাই তাঁর ব্যক্তিগত মত। গোটা বক্তব্যের দায়ও তাঁর বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।