• 'ভবিষ্যত্‍ শেষ হয়ে যাবে,' মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ ভেবে দেখার দাবি ফুরফুরার ত্বহার
    আজ তক | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বাংলায় ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। বিভিন্ন মাদ্রাসার কার্যপদ্ধতি নিয়ে তদন্তের পর প্রথম পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়া আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই যাচাইয়ে মাদ্রাসাগুলির পরিচালন ব্যবস্থা, শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা, পড়ুয়ার উপস্থিতি, পরিকাঠামো এবং অর্থের উৎস-সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে খবর।

    ২৫২টি মাদ্রাসা মধ্যে অধিকাংশই খারিজি মাদ্রাসা বলে খবর। কলকাতা ও ২২ জেলায় মাদ্রাসা নিয়ে সমীক্ষা চালায় রাজ্য। সমীক্ষাটি চালিয়েছিল  সংখ্যালঘু এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর।  প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দেন, জেলায় জেলায় কত অনুমোদন যুক্ত এবং কত অনুমোদনহীন মাদ্রাসা রয়েছে তার সমীক্ষা করতে হবে। তারপরেই জেলায় জেলায় শুরু হয় এই সমীক্ষা। রাজ্যের তরফে যে সমীক্ষা চালানো হয়েছে তাতে দেখা হয়েছে মাদ্রাসার পরিচালন ব্যবস্থা পড়ুয়ার সংখ্যা অর্থের উৎস ,নথিভুক্তের অবস্থান, ইত্যাদি নানা বিষয়। যে সমস্ত মাদ্রাসাগুলিকে শোকজ করা হয়েছে তাদের প্রমাণ করতে হবে যে মাদ্রাসা চালানোর মতো তাদের পরিকাঠামো রয়েছে। প্রমাণ করতে না পারলে সেই সমস্ত মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেবে রাজ্য সরকার। প্রথম দফায় ২৫২ টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং সেই নোটিসের কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা শাসকদের কাছে।

    এদিকে মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কালীঘাট তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, মাদ্রাসা তো একটা শিক্ষার ঘরানা। আমাদেরও নানারকম ঘরানা আছে, আমাদের টোল শিক্ষা আছে। বিভিন্ন ধরণের পদ্ধতি আছে। ফলে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে, ধর্মীয় শিক্ষার ভিত্তিতে, তাঁকে দাগিয়ে দেওয়া, এটা বোধহয় ঠিক নয়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ত্বহা সিদ্দিকীও। ধর্ম শিক্ষা অন্য ধর্মকে ভালোবাসতে, শ্রদ্ধা করতে শেখায়, মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ নিয়ে এমনটাই মত ত্বহা সিদ্দিকীর। ধর্ম শিক্ষাটা প্রত্যেক ধর্মের ছেলে মেয়েদের দেওয়া উচিত বলে মনে করেন ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী। 

    অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। সে প্রসঙ্গে ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী বলেন, ২৫২ টা মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ১০০ টা মাদ্রাসাকে শোকজ করা হয়েছে। কোন তথ্যতে, কোন ভিত্তিতে, কোন কারণে এটা পশ্চিম বাংলার মানুষ এখনো অবগত নয়। ২৫২টা মাদ্রাসায় যদি বন্ধ করে দেওয়া হয় ১০০ টাকে শোকজ করা হয়, সেই মাদ্রাসার ভবিষ্যৎ কি? সেই মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা শুধু ধর্ম শিক্ষা অর্জন করে না। অধিকাংশ মাদ্রাসায় ধর্ম শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে জেনারেল শিক্ষা দেওয়া হয়। যেমন স্কুলের সিলেবাস থাকে, সেই স্কুলের সিলেবাস গুলো এই মাদ্রাসাতেও পড়ানো হয়। তা সত্ত্বেও ২৫২টা মাদ্রাসা কে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কোন চক্রান্তে ,কাদের ইন্ধনে? একটা মাদ্রাসায় যদি ৫০ টা ছেলে মেয়ে পড়াশোনা করে, তারা শিক্ষা অর্জন করে। ধর্ম শিক্ষাটা প্রত্যেক ধর্মের ছেলেমেয়েদের দেওয়া উচিত বলে মনে করি। ধর্ম শিক্ষার মাধ্যম দিয়ে এক ধর্মের মানুষ আরেক ধর্মের মানুষকে ভালবাসতে শেখে, শ্রদ্ধা করতে শেখে। ধর্ম শিক্ষার মাধ্যমে দেশকে কিভাবে ভালোবাসা যায় সেই শিক্ষা অর্জন করা যায়। ধর্ম শিক্ষার মাধ্যম দিয়ে কে হিন্দু, মুসলিম , জৈন, কে খ্রিস্টান এটা আমরা না জেনে, ধর্ম শিক্ষার মাধ্যম দিয়ে আমরা জানতে পারি আমরা সকলে মানুষ। প্রত্যেকটা মাদ্রাসায় ধর্ম শিক্ষা দেওয়া হয় তার সঙ্গে সঙ্গে জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষাও দেওয়া হয়। যে মাদ্রাসাগুলো সরকারি অনুমোদন নেই সরকারের কাজ হল সেই মাদ্রাসাগুলোকে সরকারি অনুমোদন দিয়ে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা। সরকারের এই উদ্যোদ না নিয়ে, মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়াটা মোটেই উচিত নয়। যে মাদ্রাসায় পঠন পাঠন ভুল হচ্ছে সেটা শুধরে নিয়ে সরকারি অনুমোদন দিয়ে সেটাকে আরো সুন্দরভাবে কিভাবে পরিচালনা করা যায় সেটাই সরকারের উচিত হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। সরকার তা না করে এই মাদ্রাসাগুলোকে বন্ধ করে দিয়ে যে চক্রান্ত করছে এটা মুসলিম বিরোধী,মুসলিমদের প্রতি অত্যাচার, মুসলিমদের প্রতি জুলুম, মুসলিমদের ছোট করে দেখা হচ্ছে। বাংলার মানুষ বুঝতে পারছে। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করব, মাদ্রাসা গুলোকে বন্ধ করে দিলে বাংলার ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ  শেষ হয়ে যাবে। তাই সরকারি অনুমোদন দিয়ে কীভাবে সুন্দর ভাবে পরিচালনা করা যায় সেটা ব্যবস্থা করার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।
  • Link to this news (আজ তক)