সম্প্রতি অ্য়াসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্য়ান্ড নার্সিংহোমের তরফে স্বাস্থ্য় ভবনে ‘ভুয়ো চিকিৎসক’দের নিয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। তদন্ত শুরু করে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। সোমবারই বর্ধমানের একটি বেসরকারি হাসপাতালের এরকমই এক ‘ভুয়ো চিকিৎসক’কে বরখাস্তের নির্দেশ দিল জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম সেখ সাইদুল হক।
তবে শুধু সেখ সাইদুল হক-ই নন। অ্য়াসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্য়ান্ড নার্সিংহোমের রাজ্য সভাপতি রাজীব পাণ্ডের দাবি, রাজ্য জুড়ে এখনও পাঁচজনের নাম পাওয়া গিয়েছে, যাঁদের বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের দেওয়া রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটগুলি ভুয়ো। জাল সার্টিফিকেট দাখিল করে কী ভাবে তাঁরা রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন পেলেন তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম জানিয়েছেন, বর্ধমানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ উঠতেই বিষয়টি সামনে আসে। যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিটি ইতিমধ্যেই রিপোর্ট জমা দিয়েছে। জয়রাম বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরকে রিপোর্ট দিয়েছি। যে হেতু তিনি ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন, তাই তাঁকে দ্রুত বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এই ধরনের ‘ভুয়ো ডাক্তার’-এর রেজিস্ট্রেশন হওয়ার জন্যে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, ‘উনি জেলে যাবেন। জেলে যাওয়ার জন্য রাস্তা তৈরি করেছেন। জাল শংসাপত্রের মাধ্যমে কেউ অধ্যাপক বা চিকিৎসক হিসেবে কাজ করলে তদন্তের পরে দোষ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’