• ভূতনিতে লাইফ জ্যাকেট গায়ে নৌকায় রোগী দেখছেন সরকারি চিকিৎসক, বাড়ছে ক্ষোভ
    প্রতিদিন | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • পরনে ‘লাইফ জ্যাকেট’, হাফপ্যান্ট। জলে নৌকায় চড়ে রোগী দেখে বেড়াচ্ছেন মানিকচক ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অভিকশঙ্কর কুমার। বানভাসিরা যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন, সেখানেই স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তা, চিকিৎসক ও কর্মীরা এভাবেই দিনভর চক্কর কাটছেন। সোমবার উত্তর চণ্ডীপুরের বিভিন্ন জলবন্দি গ্রামে নৌকায় পৌঁছে যান মানিকচক ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক। নৌকায় বসে বানভাসি রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ওষুধও দেন তিনি।

    পরে স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, বন্যার জলে ভিজে পড়ে থেকে জ্বর, সর্দি, কাশি সহ বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে বানভাসিদের মধ্যে। ওই কারণে জলবন্দি এলাকায় নিয়মিত নজরদারি চালানোর পাশাপাশি নৌকায় করে চিকিৎসা পরিষেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে মালদহের বানভাসি এলাকাজুড়ে বিপন্ন মানুষের একাংশের অভিযোগ, ‘বাবু শুধু নেতা-মন্ত্রীদের ভিড় দেখি। খাবার তো জোটে না।’ তবে সরকারি কর্মীরা যে চেষ্টা করছেন না তেমনটা নয়। বলা ভালো চেষ্টা করেও অনেক জায়গায় পৌঁছতে পারছেন না। এমনই মত বিশেষজ্ঞদের।

    এদিন ভূতনির পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। জল কমছে। তবে গঙ্গা এখনও চরম বিপদসীমার উপর থেকে চোখ রাঙ্গাচ্ছে। তাই জলযন্ত্রণা থেকে কিছুতেই মুক্তি মিলছে না বানভাসিদের। ওই পরিস্থিতিতে দিন যাত গড়াচ্ছে সরকারি ত্রাণের জন্য হাহাকার তীব্র হচ্ছে। এদিনও অভিযোগ সামাল দিতে স্পিডবোটে সেনাবাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকার ঘুরছেন মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল। বিপন্নদের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন। পার দেওনাপুর শোভাপুর বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে প্রচারে বানভাসিদের অভাব অভিযোগ শোনেন দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী। এখনও ঘরবাড়ি ১০ থেকে ১২ ফুট জলে বন্দি। অধিকাংশ গ্রামে বাড়ির একতলা জলে তলিয়ে আছে। ভূতনি সেতু সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত জল জমে থাকায় যাতায়াতে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ওই কারণে বাঁধে নামার জন্য লোহার সিঁড়ি তৈরি করেছে প্রশাসন।

    গঙ্গায় ‘লাল’ এবং ফুলহার নদীতে এখনও ‘হলুদ’ সতর্কতা রয়েছে। ইতিমধ্যে অসংরক্ষিত এলাকাগুলোতে নদীর জল ঢুকে পড়েছে। ওই পরিস্থিতিতে মালদহ শহরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। ১৯৯৮ সালে এই বাঁধ ভেঙে গঙ্গার জলে প্লাবিত হয়ছিল মালদহ শহর। গঙ্গার জলস্তর দ্রুত না কমলে এবারও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা নদীপাড়ের বাসিন্দাদের। বৃহস্পতিবার থেকে ফরাক্কা ব্যারাজের ১০৯টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজের ডাউনস্ট্রিমে থাকা গ্রামগুলোতেও জল ঢুকছে। প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশও সতর্ক রয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে এনডিআরএফের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)