প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং BRICS দেশের ভারতপন্থী রাষ্ট্রনেতাদের বোমা মেরে ওড়ানোর হুমকি দেওয়া হলো। ঘটনার তদন্তে নেমে বিহার এবং ঝাড়খণ্ড থেকে রোশন কুমার ভূমিহার এবং গুলশন কুমার সিং নামে ২ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গুজরাট পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার গুজরাটের Legal and Parliamentary Affairs Department-এ একটি ইমেল পাঠানো হয়। তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর, বিধানসভা, সচিবালয় এবং BRICS-এ ভারতকে সমর্থন করেছে এমন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
হুমকি মেলটি আসে jondmoragn52627@gmail.com - নামে একটি আইডি থেকে। সঙ্গে সঙ্গে ইমেলের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টের সূত্র ধরে ভাগলপুরে পৌঁছে যায় সাইবার পুলিশের একটি স্পেশাল টিম। স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে রোশন কুমার ভূমিহারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জেরা করে গুলশন কুমার সিংয়ের নাম সামনে আসে। রোশন দাবি করেন, গুলশনই তাঁকে ওই ইমেল আইডিটি দিয়েছিলেন। এর পরে ঝাড়খণ্ডের দেওঘর থেকে গুলশনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে হুমকি ইমেলের ঘটনাটিকে আন্তঃরাজ্য সাইবার চক্রের কাজ বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। ধৃত দুই অভিযুক্তের কাছ থেকে ৫ লক্ষ ১৩ হাজার ৮৪৭টি ই-মেল আইডি ও পাসওয়ার্ডের তালিকা উদ্ধার হয়েছে। সাইবার ক্রাইম এবং অন্যান্য বেআইনি কাজে এই ইমেল আইডিগুলি ব্যবহার করা হতো বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ধৃত দুই অভিযুক্তের সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েক জনের যোগাযোগ ছিল বলে প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। তারা ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের মাধ্যমে রোশন এবং গুলশনের কাছে টাকা পাঠাত। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে টাকা পাঠানো হয়েছিল বা কত টাকা দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ধৃতদের সঙ্গে আর কারও যোগ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কাদের বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দফতর, বিধানসভা, সচিবালয় এবং BRICS-এ ভারতকে সমর্থনকারী দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনায় কাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে?
বিহারের রোশন কুমার ভূমিহার এবং ঝাড়খণ্ডের গুলশন কুমার সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কোথা থেকে হুমকি ই-মেলটি পাঠানো হয়েছিল?
jondmoragn52627@gmail.com আইডি থেকে ই-মেলটি পাঠানো হয়েছিল।
ধৃতদের কাছ থেকে কী উদ্ধার হয়েছে?
৫,১৩,৮৪৭টি ই-মেল আইডি ও পাসওয়ার্ডের তালিকা উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে বাংলাদেশের যোগ পাওয়া গিয়েছে কি?
প্রাথমিক তদন্তে বাংলাদেশের কয়েক জনের সঙ্গে ধৃতদের যোগাযোগের তথ্য মিলেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তাঁদের ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।