রাজস্থানের পুরভোটে জয়ের ধারা বজায় রাখল বিজেপি। সোমবার রাত পর্যন্ত ১০,২৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০,২৩৫টির ফল ঘোষণা হয়েছে। বিজেপি জিতেছে ৪,১৭৯টিতে। ঠিক পিছনেই রয়েছে কংগ্রেস। তাদের দখলে গিয়েছে ৩,৬১৩টি ওয়ার্ড। চমকে দেওয়া ফল করেছেন নির্দল প্রার্থীরা। জেতা ওয়ার্ডের নিরিখে তাঁরা রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। নির্দল প্রার্থীরা জিতে নিয়েছেন ২,২৭৩টি ওয়ার্ড।
গত ৯ ও ১১ সেপ্টেম্বর পুরভোট হয় রাজস্থানে। ১০টি নগরনিগম, ৫১টি পুর পরিষদ এবং ২৪৮টি পুরসভায় ভোট দেন ভোটাররা। সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় গণনা। রাত ৮টা পর্যন্ত ১০,২৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০,২৩৫টির ফল প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে বিজেপি ৪,১৭৯টি ওয়ার্ডে জিতেছে। কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে ৩,৬১৩টি ওয়ার্ড। নির্দল প্রার্থীরা জিতেছেন ২,২৭৩টি ওয়ার্ডে। এছাড়া এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টি ৬৩, আম আদমি পার্টি ৪২, সিপিএং ৩৮, বহুজন সমাজ পার্টি ১৯ এবং ভারত আদিবাসী পার্টি ৮টি ওয়ার্ডে জিতেছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতলেও বিজেপির জয়কে নিরঙ্কুশ বলতে নারাজ রাজস্থানের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরা। তাঁর দাবি, ‘নগর নির্বাচনে বিজেপি বরা বরই সুবিধা পায়। কিন্তু এ বার সেই ব্যবধান অনেকটাই কমেছে।’ তাঁর অভিযোগ, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনে অনিয়মের কারণেই বহু আসনে পিছিয়ে পড়েছে কংগ্রেস।
তবে বিজেপির জয়কে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়েছেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা। কিন্তু তাঁর নিজের শহর ভরতপুরের ৬৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৬টিতেই জয় পেয়েছেন নির্দল প্রার্থীরা। বিজেপি পেয়েছে ২০টি এবং কংগ্রেস ৭টি ওয়ার্ড। ভরতপুরের এই ফল রাজনৈতিক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝালাওয়ারও হাতছাড়া হয়েছে বিজেপির। সেখানে ঘাঁটি গেড়েছে কংগ্রেস। ৪৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিতে জিতেছে তারা। বিজেপি পেয়েছে ১৩টি।
চারটি পুরনিগমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। জয়পুরে ১৫০টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি ৭৮টি এবং কংগ্রেস ৫৩টি ওয়ার্ডে জিতেছে। উদয়পুরে ৮০টির মধ্যে বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে ৫৩টি, কংগ্রেসের ২৩টি ওয়ার্ড। ভিলওয়াড়ায় ৭০টির মধ্যে বিজেপি ৪৫টি এবং কংগ্রেস ১০টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে। কোটা পুরনিগমের ১০০টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৫৫টি।
কংগ্রেস অবশ্য বিকানের পুরনিগমে বড় জয় পেয়েছে। ৮০টি ওয়ার্ডের মধ্যে কংগ্রেস ৪২টি, বিজেপি ২৭টি এবং নির্দলরা ১০টি ওয়ার্ডে জিতেছেন। যোধপুরে বিজেপি ও কংগ্রেস ৪৪টি করে ওয়ার্ড পেয়েছে। ফলে সেখানে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আজমেড়ে ৮০টির মধ্যে কংগ্রেস ৩৭টি এবং বিজেপি ৩২টি ওয়ার্ডে জিতেছে। পলিতেও কংগ্রেস ৬৫টির মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ডে জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠাতা পেয়েছে। এই শহর আবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি মদন রাঠোরের নিজের এলাকা।