মোড়ে-মোড়ে প্যান্ডেল। সেখানে বিরাজ করছেন শ্রীগণেশ। ঢাক-ঢোল বাজছে। সঙ্গে বাংলা-হিন্দি গান। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছে ঠাকুর দেখা। যত রাত হচ্ছে ভিড়ও বাড়ছে। সোমবার গণেশ চতুর্থীতে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁকিনাড়ার দৃশ্যটা এমনই। এক ঝলকে দেখলে মনে হবে, যেন মিনি মহারাষ্ট্র।
দেশ জুড়ে চলছে গণপতির আরাধনা। তার ঢেউ এসে পড়েছে ব্যারাকপুরের ‘জুট মিল বেল্ট’ কাঁকিনাড়া-জগদ্দলেও। ছোট, বড় মিলিয়ে এলাকায় প্রায় ৭৫টি গণেশপুজোর আয়োজন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের উৎসাহও।
কাঁকিনাড়ার গণেশপুজো এ বছর আর নিছক পুজো থাকেনি। উৎসবের চেহারা নিয়েছে। সন্ধ্যা নামতেই প্যান্ডেলে-প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছোটদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেরই পরনে নতুন জামা-প্যান্ট। চোখে-মুখে একগাল হাসি। আলোর মালায় সেজেছে পাড়ার গলিগুলো। প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে সেলফিও তুলছেন অনেকে।
প্রতিমাতেও রয়েছে চমক। কোথাও বিশাল মূর্তি। থিমের সাজ। আলোর কাজ। কোথাও তুলনামূলক ভাবে ছোট প্রতিমা। তবে চাকচিক্যে কমতি নেই কোনও। স্থানীয়দের একাংশের মতে, মহারাষ্ট্রের গণেশোৎসবের আদলেই একটু একটু রূপ পাচ্ছে কাঁকিনাড়া, জগদ্দলের পুজো। রাজ্যে পালাবদলের পরে সনাতনী ভাবধারাকে ঘিরে বিভিন্ন পুজো-পার্বনের পরিসর বেড়েছে বলেও দাবি উদ্যোক্তাদের একাংশের।
তবে অনেকের মতে, রাজনীতির হিসেবের বাইরে গণেশ চতুর্থীতে উৎসবের আবহটাই ধরা পড়ছে সবচেয়ে বেশি। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাপিয়ে গিয়েছে সব কিছুকে। পুজো ঘিরে পাড়ায় পাড়ায় যেন তৈরি হয়েছে মিলনমেলার আবহ। এই আবহে নিরাপত্তাতেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ভিড় সামলাতে পাড়ায় পাড়ায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
এদিন এলাকার বিভিন্ন গণেশপুজোর প্যান্ডেল ঘুরে দেখেন জগদ্দলের বিধায়ক রাজেশ কুমার। রাজ্য এবং রাজ্যবাসীর সুখ-সমৃদ্ধির কামনা করে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সবাই সুখে থাকুন, শান্তিতে থাকুন — এই প্রার্থনাই করলাম।’