• হাসির আড়ালেই কি লুকিয়ে পুরসভা দখলের সমীকরণ
    এই সময় | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি

    রবিবারই গণেশ পুজোর উদ্বোধনে রবিবার শিলিগুড়ির কলেজ পাড়ায় এক মঞ্চে দেখা গেল শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব এবং দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তকে। হাতও মেলান দু'জনে। পরস্পরের প্রশংসাও করেন। বাস্তব চিত্র হলো, মুখে সৌজন্যের হাসি থাকলেও আড়ালে পুর ভোটেরই প্রস্তুতিতেই নেমে পড়েছে দুই ফুল।

    পুর ভোটকে মাথায় রেখে বিজেপি যেমন শিলিগুড়ির পুজো কমিটিগুলির দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়, তেমনই সদ্য বিদায়ী রাজ্যের শাসকদলের নেতা গৌতমও জল মাপছেন। দার্জিলিংয়ের সাংসদ বলেছেন, 'তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের মতাদর্শগত ফারাক রয়েছে। তবে সামাজিক অনুষ্ঠানে সৌজন্য দেখানোটাই রীতি।' পাল্টা সৌজন্য দেখিয়েছেন প্রাক্তন মেয়রও। তিনি বলেছেন, 'রাজনীতিতে বিপক্ষের বিরুদ্ধে অনেক কথাই বলতে হয়। তবে সামাজিক অনুষ্ঠানে সামাজিকতা ভুলে গেলে চলবে কেন?'

    মে মাসেই বিধানসভা ভোটে একেবারে ধরাশায়ী হয়েছে তৃণমূল। গোটা রাজ্য তো বটেই, দার্জিলিং জেলাতেও বিধানসভা ভোটে বিজেপির কাছে কার্যত বিনা যুদ্ধেই আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা মিলিয়ে ছ'টি বিধানসভা আসনের প্রতিটিতেই বিজেপি জয়ী হয়েছে। তবে সেটা মে মাসের কথা। সেপ্টেম্বরে রাজ্যের সঙ্গে শিলিগুড়িরও রাজনৈতিক পরিস্থিতির অনেকটাই বদল হয়েছে। পানীয় জল থেকে বিদ্যুৎ, বেহাল রাস্তা থেকে বেআইনি নির্মাণ, তোলাবাজি থেকে বালি সিন্ডিকেট, নানা খবরই এখনও বাতাসে উড়ছে।

    আর তাতেই আশার আলো দেখছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজ্য সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে, পুজোর পরেই কলকাতা ও হাওড়া পুর নির্বাচনের পরেই শিলিগুড়ি পুর ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তে পারে। ফলে রাজ্য নেতৃত্ব মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকলেও তলে তলে বুথ স্তরে সংগঠনকে চাঙা করার চেষ্টা চলছে শিলিগুড়িতে। এই ব্যাপারে কোনও রাখঢাকও করছে না তৃণমূল। গৌতম বলেন, 'সংগঠনকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। দক্ষ কর্মীদের একজোট করা হচ্ছে। পুর নির্বাচনে বিজেপি একতরফা ভাবে জয়ী হতে পারবে না।'

    বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরে শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে গৌতম পদত্যাগ করার পরে বিজেপি মহলে উল্লাস শুরু হয়। শহরের ৪৭টি ওয়ার্ডে কোঅর্ডিনেটর নিয়োগ করা হয়। ৪৭ ওয়ার্ড ভেঙে ৬৩টি গঠনের চিন্তাভাবনা চলেছে। তবে লড়াই যে সোজা হবে না সেটা প্রকাশ্যে স্বীকার না-করলেও আড়ালে মেনে নিচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্বও। মেনে নেওয়ার কারণ, দলের ভিতরের অন্তর্দ্বন্দ্ব।

    দিন কয়েক আগেই বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন ডেপটি মেয়র নান্টু পালকে প্রকাশ্যে অপমান করেন দলের এক পুচকে নেতা। সেই ভিডিয়ো ভাইরালও হয়। পরে সেই বিবাদ মিটলেও মানুষ যে ভালো ভাবে নেননি সেটা রাস্তা বার হলেই স্পষ্ট হয়ে যায়। গোষ্ঠীকোন্দল, তোলাবাজি, ক্ষমতা হাতে আসার আগেই নিজেদের কাউন্সিলার ভেবে ওয়ার্ডে কিছু বিজেপি নেতার দাদাগিরি চলছে বলে অবিযোগ। নান্টু বলেন, 'দলে কোনও সমস্যা নেই। কারা এই সমস্ত ভিত্তিহীন কথা বলছেন জানি না। আগামী পুর নির্বাচনে শিলিগুড়িতে বিজেপিই ক্ষমতায় আসবে।'

  • Link to this news (এই সময়)