এই সময়, মালদা: বন্ধু হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স চালক। নিজেও সাফাইকর্মীর কাজ করেন হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। সোমবার সেই বন্ধুর কাছে চাবি নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুল্যান্স চালাতে গিয়ে ঘটল বিপত্তি। অ্যাম্বুল্যান্সের ধাক্কায় জখম হলেন স্থানীয় একটি ল্যাবরেটরির কর্মী। শুধু তাই নয়, ধাক্কা দেওয়ার পরেও মিনিট খানেক ধরে হাসপাতাল চত্বরে বেপরোয়া ভাবে বনবন করে ঘুরতে থাকেন ওই সাফাইকর্মী। থাকে। অল্পের জন্য কয়েকজন রোগীর আত্মীয় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। অবশেষে হাসপাতালের একটি নবনির্মিত বাগানের লোহার ব্যারিকেডে ধাক্কা মেরে থেমে যায় অ্যাম্বুলেন্সটি।
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে অ্যাম্বুল্যান্স ফেলে এলাকা থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত। সোমবার বেলা ১২টা নাগাদ চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বরে বেপরোয়া ওই অ্যাম্বুল্যান্সের ছুটে বেড়ানো দেখে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন অনেকে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন ওই অ্যাম্বুল্যান্স চালক রূপম দাস হাসপাতাল চত্বরে রোগী নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। সেই সময়ে সাফাইকর্মী সিটুল হরিজন তাঁর কাছ থেকে অ্যাম্বুল্যান্সের চাবি নেয় বলে অভিযোগ। এরপরে হঠাৎই গাড়ি স্টার্ট করে ফাঁকা জায়গায় টেস্ট ড্রাইভকরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন ওই সাফাইকর্মী।
সেই সময়ে ওই হাসপাতালে কয়েকজন রোগীর রক্তের নমুনা নিতে যাচ্ছিলেন স্থানীয় একটি বেসরকারি ল্যাবের কর্মী মহম্মদ রব্বানি। বেপরোয়া ওই অ্যাম্বুল্যান্সর ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়েন। তাঁর পা-ছাড়াও শরীরের তিনটি জায়গার হাড় ভেঙে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
রূপম বলেন, 'প্রতিদিনের মতো সাফাইকর্মী সিটুল কাজ করতে এসে আমাদের সঙ্গে গল্প করেন। হঠাৎ করে অ্যাম্বুল্যান্স চালানোর আবদার করে। আমরা জানতাম, অল্পবিস্তর গাড়ি চালাতে জানে। ফাঁকা জায়গায় টেস্ট ড্রাইভ করবে বলেই চাবিটা দিয়েছিলাম। কিন্তু তার পরেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। যখন বুঝতে পারি, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে তখন আমরা অ্যাম্বুল্যান্সের পিছনে ছোটাছুটি শুরু করি। হাসপাতালে একটি লোহার পিলারে ধাক্কা মেরে গাড়িটি বিকল হয়ে যায়।'
রোগীর আত্মীয়দের অভিযোগ, 'ওই সাফাইকর্মী মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। গাড়ি চালাতে না জেনেও এ ভাবে টেস্ট ড্রাইভ করার জন্য তাঁকে চাবি দেওয়া উচিত হয়নি। অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেত পারত।' ঘটনার পরে অভিযুক্ত সাফাইকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক পারভেজ আঞ্জুম জানিয়েছেন, বিষয়টি শুনেছি। হাসপাতাল চত্বরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ় দেখা হচ্ছে। পুলিশকে জানানো হবে।