ফের অমানবিকতার ছবি দেখল শহর কলকাতা। সম্পত্তির দখল নিতে বৃদ্ধ বাবাকে নাগেরবাজারের রাস্তায় ফেলে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃদ্ধের নাম বুদ্ধদেব জানা। বয়স ৭২। সোমবার রাতে তাঁকে উদ্ধার করে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বৃদ্ধের ছেলে দেবাশিস জানার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
সোমবার রাত ৯টা নাগাদ নাগেরবাজারের রাস্তায় টহল দিচ্ছিলেন পুলিশ কর্মীরা। তখনই তাঁদের নজরে পড়ে, দোকানের শেডের নীচে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছেন ৭২ বছরের এক বৃদ্ধ। পরনে নোংরা হাফপ্যান্ট আর টি-শার্ট। দেখেই বোঝা যায়, দীর্ঘদিন স্নান করেননি। মাথার কাছে শুধু একটা জলের বোতল।
বৃদ্ধকে ওই ভাবে শুয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যান নাগেরবাজার থানার এক পুলিশ কর্মী। কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কী নাম আপনার?’ ভাঙা গলায় জবাব আসে, ‘বুদ্ধদেব জানা। আমাকে সবাই চেনে।’ সামনেই ছিলেন নাগেরবাজার থানার আইসি সুমিত কুমার বৈদ্য। তাঁর নির্দেশে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বৃদ্ধের আদি বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল থানার বামনবার এলাকায়। বর্তমানে দমদমের অজয়নগরের কালীমন্দিরের কাছে ছেলে দেবাশিস জানার সঙ্গে থাকতেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জগন্নাথের প্রথম পক্ষের সন্তান মারা গিয়েছেন। দ্বিতীয় পক্ষের বিয়ের পরে দেবাশিসের জন্ম। পরে দ্বিতীয় স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এর পরেই বৃদ্ধের উপর অত্যাচার শুরু হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তাঁদের আরও অভিযোগ, সম্পত্তির দখল নিতেই বৃদ্ধকে রাস্তায় ফেলে চলে গিয়েছেন তাঁর ছেলে।
ঠিক কবে বুদ্ধদেবকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে স্থানীয় দোকানদারদের দাবি, গত এক সপ্তাহ ধরে বৃদ্ধকে দেখছেন তাঁরা। কেউ কিছু দিলে খান, না হলে ওই ভাবেই শুয়ে থাকেন। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নাগেরবাজার থানার পুলিশ। বৃদ্ধের ছেলে দেবাশিসের খোঁজ চলছে। বুদ্ধদেবের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, কেন তাঁকে রাস্তায় ফেলে যাওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।